পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

সম্পর্ক এবং ঝগড়া

ঝগড়া সেখানেই হতে পারে যেখানে কোনো সম্পর্ক থাকে। যেকোনো সম্পর্কের মধ্যেই ঝগড়া হতে পারে। অনেকের মতে ঝগড়া না হলে নাকি সম্পর্ক গভীরতা পায় না। বন্ধু-বান্ধব, স্বামী-স্ত্রী এবং প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় ঝগড়া হয়ে থাকে। এমন কোনো সম্পর্ক নেই যারা বলতে পারবে জীবনে তাদের মধ্যে কোনো দিন ঝগড়া হয় নি। অনেক সময় ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়ার শুরু হয় এবং শেষ হয় সম্পর্ক বিচ্ছেদ এর মাধ্যমে। তাই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া লাগলেও সেটিকে বাড়তে না দিয়ে অঙ্কুরেই শেষ করে দেওয়া উচিত। আমরা চাই এমন একদিন আসুক যেদিন আমরা ভুরি ভুরি উদাহরণ দিতে পারবো যে আমাদের মধ্যে জীবনে কোনোদিন ঝগড়া হয় নি। আজ আমরা প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে যেসব বিষয়ে ঝগড়া হয় তা নিয়ে আলোচনা করবো।

 

আগেই বলেছি বেশিরভাগ ঝগড়ারই শুরু হয় সাধারণ কিছু বিষয় নিয়ে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যেও তা ব্যতিক্রম নয়। যেমন –

 

ঘটনা – ১: প্রেমিকা ফোন দিয়েছে কিন্তু প্রেমিক মশাই ক্লাস করছেন। অতএব ফোন রিসিভ করতে পারেন নি। তার মানে প্রেমিকা মনে করে বসেন প্রেমিক মশাই তাকে এড়িয়ে গেছেন। অতএব, তার সাথে নো রিলেশন।

 

প্রেমিক পুরুষটি যখন ক্লাশ শেষ করে বের হয়ে তার প্রেয়সীকে ফোন দেয়। তখন ওপাশ থেকে তার প্রেয়সীর উত্তর অনেকটা এরকম হতে পারে – আমাকে ফোন দিছো কেন? আমাকে আর ফোন দিবা না? এতো সাহস তোমার কোথা থেকে হলো? তুমি আমার ফোন রিসিভ করো না।

 

প্রেয়সীর চড়া চড়া কথা শুনে অনেক সময় প্রেমিক পুরুষটিরও রাগ উঠে যায়। তাই তার কথাতেও কিছুটা ঝগড়ার মনোভাব ফুটে উঠে। যেমন – ক্লাশে থাকলে তোমার ফোন রিসিভ করবো কিভাবে? সুন্দর করে কথা বলতে পারো না।

 

তখন প্রেয়সী কি বলে শুনুন – কি? আমি সুন্দর করে কথা বলতে পারি না। ঠিক আছে আমাকে আর ফোন দিবে না। যে সুন্দর করে কথা বলতে পারে এখন থেকে তাকে ফোন দিও।

 

ছেলেটির উত্তর হতে পারে এরকম – দিলাম না তোমায় ফোন। তোমারে ফোন না দিলে আমার কি আসবে যাবে। মেয়ের কি দেশে অভাব নাকি।

 

অনেকক্ষণ তারা দুজন কঠিন বাক্য বিনিময় করে অবশেষে তাদের সুন্দর সম্পর্কের বারোটা বাজিয়ে ছাড়লেন। কিন্তু এই কথাগুলোই একটু অন্যভাবে সুন্দরভাবে বললে সম্পর্কটা আরও সুন্দর হতে বাধ্য। যেমন –

প্রেমিক: হ্যালো।

প্রেমিকা: তখন ফোন দিলাম রিসিভ করলে না। কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?

প্রেমিক: সরি! আসলে ক্লাশে ছিলাম তাই রিসিভ করতে পারি নি।

প্রেমিকা: ওকে ফাইন। কখন দেখা করছো?

প্রেমিক: বিকেলের দিকে দেখা করি।

প্রেমিকা: ঠিক আছে। যাও বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে নাও।

 

আমি বোধ করি এরপর আর দুজনের মধ্যে কোনো সমস্যা থাকতে পারে না। এমনি করে সারাটি জীবন মানিয়ে নিতে পারলে তাদের সম্পর্কে কোনো ধরনের সমস্যাই তৈরি হবে না। তাই প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনেরই উচিত যেকোনো বিষয় সিরিয়াসলি না নিয়ে একটু মাথা ঠান্ডা করে ভাবা উচিত। আগে জানতে হবে আসলে বিষয়টি কি হয়েছে। কোনো কিছু না জেনে শুনে উত্তেজিত হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া অবশ্যই ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসে না।

 

প্রেমিক-প্রেমিকা উভয়কেই একে অপরের সুবিধা ও অসুবিধা বুঝতে হবে। অনেক প্রেমিকা আছে যারা আবেগের বশে প্রেমিককে রাত ২ টা ৩ টার দিকে বাসায় সামনে আসতে বাধ্য করেন। আবার অনেক প্রেমিক আছেন যারা প্রেমিকাকে বাসা থেকে বের হতে বাধ্য করেন। তারা এটা বুঝে না যে আমি যা বলছি তা আদৌ সম্ভব কিনা। প্রেমিক মশাই যদি তার প্রেয়সিনীর বাসার সামনে হাজির হতে না পারে তো শুরু হয়ে যায় ঝগড়া। আবার প্রেয়সিনী যদি বাসা থেকে বের হয়ে প্রেমিক মশাইয়ের সাথে দেখা করতে না পারে শুরু হয়ে যায় ঝগড়া। এসব ছেলে মানুষি বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা মোটেও ঠিক নয়। আপনি হয়তোবা যতটা স্বাধীন সে হয়তোবা ততটা স্বাধীন নয়। এগুলো একে অপরকে বুঝতে হবে। এবার আসুন সংক্ষেপে ঝগড়ার কিছু সূত্রপাত দেখে নিই –

 

  • খোঁচা দিয়ে কথা বলা বা কটুক্তি করা।
  • ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা।
  • মিউচুয়াল ফ্রেন্ড।
  • সন্দেহ বা অবিশ্বাস।
  • তৃতীয় কোনো মেয়ে বা ছেলে।

 

আসুন উপরের বিষয়গুলোকে একটু ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে সামনের দিকে এগিয়ে চলি। আপনার প্রিয়জন যা পছন্দ করেন না তা আপনার না করাই ভালো। আবার আপনারও উচিত কারো ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা। যাকে বিশ্বাস-অবিশ্বাস এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রেম-ভালোবাসা। আপনার ভালোবাসায় যদি বিশ্বাস থাকে তাহলে জীবনে আপনি সুখী হতে পারবেন। আর যদি আপনার ভালোবাসায় অবিশ্বাস থাকে তাহলে আপনি জীবনেও সুখী হতে পারবেন না। আর একটা মানুষের জীবন কেবলমাত্র আপনাকে ঘিরেই নয়। তার চারপাশে আরও অনেক মানুষ রয়েছে। আপনি যেমন আপনার বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটাচ্ছেন তারও সেরকম অধিকার রয়েছে। শুধু শুধু সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে সুন্দর দুষ্টুমিষ্টি সম্পর্কটাকে তেঁতো না করাই ভালো। 

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায় জেনে নিন মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায়
এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণজেনে নিন যেভাবে এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করবেন।
বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেনজেনে নিন বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারীবিস্তারিত পড়ুন বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারী
লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায় জেনে নিনবিস্তারিত পড়ুন লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায়
মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষকজেনে নিন কিভাবে মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষক
যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )জেনে নিন যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )
ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?জেনে নিন ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?
লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণবিস্তারিত পড়ুন লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণ
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায়বিস্তারিত পড়ুন ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায় জেনে রাখুন
আরও ১৪৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি