পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

ভালোবাসা কারে কয়

আজকাল ভালোবাসা নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু করছেন। কেউ গান লিখছেন, কেউবা কবিতা লিখেছেন আবার কেউবা গল্প লিখছেন। কিন্তু কেউই বলছেন ভালোবাসা কারে কয়। কিন্তু মনীষীরা যুগে যুগে প্রেম-ভালোবাসা সম্পর্কে বিভিন্ন উক্তি করে গেছেন কিন্তু বলে যান নি ভালোবাসা কারে কয়। আসুন মনীষীদের কিছু উক্তি দেখে নিই –

 

  • বিশ্বাস করুন,আমি কবি হতে আসিনি,আমি নেতা হতে আসি নি-আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম,প্রেম পেতে এসেছিলাম-সে প্রেম পেলামনা বলে আমি এই প্রেমহীন নীরস পৃথিবী থেকে নীরব অভিমানে চির দিনের জন্য বিদায় নিলাম। - কাজী নজরুল ইসলাম।
  • আমি তোমাকে অসংখ্যভাবে ভালবেসেছি, অসংখ্যবার ভালবেসেছি, এক জীবনের পর অন্য জীবনেও ভালবেসেছি, বছরের পর বছর, সর্বদা, সবসময়। - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • মেয়েরা প্রথমবার যার প্রেমে পড়ে, তাকে ঘৃনা করলেও ভুলে যেতে পারে না। পরিষ্কার জল কাগজে পড়লে দেখবেন তা শুকিয়ে যাওয়ার পড়েও দাগ রেখে যায়। - সমরেশ মজুমদার।
  • দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম প্রেম বলে কিছু নেই। মানুষ যখন প্রেমে পড়ে, তখন প্রতিটি প্রেমই প্রথম প্রেম। - হুমায়ূন আজাদ।
  • যে নারীকে আমি ভালবাসি তার সাহায্য সমর্থন ছাড়া আমি যেমনটি চাই তেমনি নৃপতিরুপে আমার দায়িত্বের গুরুভার বহন এবং আমার কর্তব্য পালন আমার সাধ্যের অতীত বলে আমার মনে হয়েছে। -  অষ্টম এডওয়ার্ড।
  • প্রেমে পড়লে বোকা বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে, বুদ্ধিমান বোকা হয়ে যায়। - স্কুট হাসসুন।
  • প্রেমের পরশে প্রত্যেকেই কবি হয়ে ওঠে। - প্লেটো।
  • ভালোবাসা পাওয়ার চাইতে ভালোবাসা দেয়াতেই বেশি আনন্দ। - টমাস ফুলার।

 

এরকম আরও শত শত উক্তি রয়েছে মনীষীদের। কিন্তু কোনো উক্তিতেই ভালোবাসা বিষয়টি আসলে কী তা বোঝা যাচ্ছে না। মনীষীরা ঠিকভাবে ব্যাখ্যা না করলেও বিজ্ঞান কিন্তু ঠিকই ভালোবাসার মানে বের করে ফেলেছেন। কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসার সাথে তার কতটুকু সামঞ্জস্য রয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আসুন জেনে নিই বিজ্ঞান কী বলে।

 

একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান বলে -  প্রেম বা ভালবাসা হলো আমাদের মস্তিষ্কের থ্যালামাসের এক ধরনের রাসায়নিক অবস্থা। যার জন্য একাধারে দায়ী আমাদের জিন। প্রেমের প্রথম দিকে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, গাল – কান লাল হয়ে যাওয়া, হাতের তালু ঘেমে যাওয়ার উপসর্গ গুলো দেখা যায়; বিজ্ঞানীদের মতে সেসবের পেছনে দায়ী হলো ডোপামিন, নরেপিনেফ্রিন হরমোন। কারণ ও লক্ষন বের করেই বিজ্ঞান ক্ষান্ত দেননি। তারা প্রেমের আবেগ কমে যাওয়া নিয়েও গবেষণা করেছেন। গবেষণায় দেখা যায় এর কারণ হচ্ছে সেসময় মস্তিষ্ক থেকে ওই হরমোনগুলো নিঃসৃত হয় না।  গবেষণাটিকে নির্ভুল করার জন্য কৃত্রিমভাবে মানুষের শরীরে সেই হরমোন প্রবেশ করিয়ে দেখা গেছে এর প্রভাবে মানুষের মনে আবার প্রেমের অনুভূতি সৃষ্টি হয়।

 

তবে ভালবাসার এই রসায়নে কেবল ডোপামিনই নয় সেই সাথে জড়িত থাকে অক্সিটাইসিন, ভেসোপ্রেসিনসহ নানা ধরনের কিছু হরমোন। বিজ্ঞানীরা মতে, এই হরমোনগুলো নাকি ভালবাসা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। অনেক সময় দেখা যায় প্রেমিক-প্রেমিকারা মনোগামী বা বহুগামী হয়। এর জন্যও দায়ী এই হরমোনগুলো। রিসেপটর বা গ্রাহক জিনে ভেসোপ্রেসিন হরমোনের আধিক্য থাকলে তা পুরুষের একগামী মনোবৃত্তিকে ত্বরান্বিত করে। 

 

প্রেমে পড়লে দেখা যায় মানুষ জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে, ভীরু-কাপুরুষ ছেলে বা মেয়েটিও সাহসী হয়ে ওঠে। এসময় অনেক কিছুই তাদের মাথায় ঢুকে না। কেউ যদি কোনো প্রেমিককে বলে তোর প্রেমিকারা অনেক বড় লোক, তোর সাথে ওর সম্পর্ক হতে পারে না। এই কথাটি প্রেমিক পুরুষ কান হয়ে মাথাতে কিছুতেই পৌঁছাতে পারবে না। অথচ কেউ যদি কোনো প্রেমিককে বলে তোর প্রেমিকা আজ আমার কাছে তোর বিষয়ে জানতে চেয়েছে। তখন সেই কথাটি রকেটের বেগে প্রেমিকের মস্তিষ্কে পৌঁছে যাবে।

 

এই বিষয়ের ব্যাখা দিতে গিয়ে বিজ্ঞান বলেছে, আমাদের মস্তিস্কে অ্যামাগডালা বলে একটি বাদাম আকৃতির প্রত্যঙ্গ আছে। সেটা এবং মস্তিস্কের কর্টেক্সের কিছু এলাকা আমাদের ভয়-ভীতি নিয়ন্ত্রণ করে, অকস্ম্যাৎ বিপজ্জনক পরিস্থিতি আসলে আমাদের আগাম সতর্ক করে দিতে পারে। দেখা গেছে প্রেমের রোমাঞ্চকর এবং উত্তাল সময়গুলোতে মস্তিকের এ এলাকাগুলোর কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভয় ভীতি কিংবা ‘ক্রিটিকালি’ চিন্তাকরার ব্যাপার স্যাপারগুলো পুরোপুরি লোপ পায় তখন।

 

আমাদের সমাজ যা বলে:

ভালোবাসা শুধুমাত্র “আমি তোমাকে ভালোবাসি” বললেই হয়ে যায় না। ভালোবাসা মানে দুটি ভালো মনের সম্মিলন, ভালোবাসা মানে বিশ্বাস, ভালোবাসা মানে ত্যাগ, ভালোবাসা মানে সহানুভূতি, ভালোবাসা মানে আবেগ, ভালোবাসা মানে যত্নশীল হওয়া, ভালোবাসা মানে কিছু চাহিদা পূরণ করা। তবে তা দৈহিক চাহিদা নয়। এসব কিছুর সমন্বয়েই তৈরি হয় একটি সুস্থ, সুন্দর প্রকৃত ভালোবাসার সম্পর্ক।

 

রাতভর মোবাইলে কথা বলে এবং সকাল হলেই পার্ক, সিনেমা হল ও রেষ্টুরেন্টে ঘুরে বেড়ালেই সেটা ভালোবাসা হয় না। এ ধরনের ভালোবাসাকে পুঁজি করে যারা সামনের দিকে এগিয়ে যায় তাদের জন্য ভালোবাসা শুধুমাত্র দু:খই নিয়ে আসে। কেননা আপনার পকেটে হয়তোবা সবসময় টাকা থাকবে না বা আপনার সবসময় বাসা থেকে বের হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তখন আপনি হয়ে যাবেন রাস্তার ফকির বা ক্ষেত।

 

উপরের বিষয়গুলো যে ভালোবাসার সম্পর্কের মধ্যে নেই। সেই সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরতে এক সেকেন্ডও সময় লাগে না। চোখের নিমিষে কাঁচের মতো টুকরো টুকরো হয়ে যায়। বাবা-মার পছন্দের পাত্র বা পাত্রীর সাথে নাচতে নাচতে বিয়ের পিড়িতে বসে যায়। যাওয়ার সময় কৌশলে ছোট্ট করে আপনাকে বলে যাবে ‘ভালো থেকো’। যেসকল প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনের মধ্যেই প্রকৃত ভালোবাসা ছিল না তাদের এ নিয়ে কিছু যায় আসে না। কিন্তু যেই প্রেমিক পুরুষ কিংবা প্রেমিক নারীটির মধ্যে প্রকৃত ভালোবাসা ছিল তাদের জন্য এই বিষয়টি খুবই কষ্টকর। চাইলেও খুব সহজে এই বিষয়টি ভোলা যায় না। এটি জীবনের ওপর খারাপ একটি প্রভাব বিস্তার করে। যা পরবর্তী জীবনে ক্যারিয়ার, পরিবার, সংসার, সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে।

 

তাই প্রেম ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ানোর আগে আবেগ দিয়ে নয় বাস্তবতার চোখ দিয়ে আগে দেখতে হবে তারপর আবেগ উজাড় করে দিতে হবে। আমরা জানি প্রেম-ভালোবাসা এমন একটি জিনিস যার শুরু হয় আবেগ দিয়ে এবং শেষ হয় বাস্তব দিয়ে। তবে প্রকৃত প্রেম-ভালোবাসা পেতে হলে প্রথমে বাস্তব দিয়ে শুরু করতে হবে এবং শেষটা করতে হবে আবেগ দিয়ে।

 

আরেকটু ব্যাখ্যা করি। যেমন আপনি দিন আনে দিন খাঁয় এমন কারো সন্তান। আপনি কোনো কোটিপতির মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এ ধরনের সম্পর্কের মিলন শুধুমাত্র সিনেমাতেই সম্ভব হয়। আপনাদের মধ্যে ভালোবাসার গভীরতা যতই থাক বাস্তবে এরকম ভালোবাসার মিলন হয়েছে কটা দেখাতে পারবেন?

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায় জেনে নিন মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায়
এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণজেনে নিন যেভাবে এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করবেন।
বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেনজেনে নিন বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারীবিস্তারিত পড়ুন বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারী
লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায় জেনে নিনবিস্তারিত পড়ুন লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায়
মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষকজেনে নিন কিভাবে মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষক
যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )জেনে নিন যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )
ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?জেনে নিন ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?
লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণবিস্তারিত পড়ুন লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণ
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায়বিস্তারিত পড়ুন ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায় জেনে রাখুন
আরও ১৪৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি