পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

হেলেন কেলার

হেলেন কেলার (Helen Adams Keller) সম্বন্ধে যে কথাটি সবচেয়ে বেশি শোনা যায় তা হলো – রহস্যময় এক নারী। এছাড়া তার সম্পর্কে আরও শোনা যায় তিনি ছিলেন বিশ্বের বিস্ময়, মানব হিতৌষী মহিয়সী নারী। হেলেন কেলার বা হেলেন অ্যাডামস কেলার সম্পর্কে উপরোক্ত কথাগুলোর যতটা যথার্থতা পাওয়া যায় তা হলো তিনি বাক-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এখানেই শেষ নয়। পরবর্তীতে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রিও অর্জন করেন। আজীবন প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করে হয়েছেন মানব হিতৌষী মহিয়সী নারী।

 

জন্ম:

হেলেন কেলার ১৮৮০ সালের ২৭ জুন উত্তর আমেরিকার টুস্কুমরিয়া নামের ছোট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আথার কেলার এবং মাতার নাম ক্যাথরিন।

 

প্রতিবন্ধী হেলেন কেলার:

হেলেন কেলার জন্মের সময় প্রতিবন্ধী ছিলেন না। তার বয়স যখন দেড় বছর তখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমেরিকার মত উন্নত দেশে জন্মগ্রহণ করলেও সেসময় আমেরিকাতেও তেমন উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল না। একসময় তার পিতা-মাতা হেলেন কেলারের জীবনের আশা ছেড়ে দেন। তবুও তারা চিকিৎসা চালিয়ে যেতে থাকেন। ভাগ্য সহায় থাকায় জীবন রক্ষা পেলেও হারিয়ে যায় কথা বলা, শোনা ও দেখার শক্তি।

 

শিক্ষাজীবন:

হেলেন কেলারের বয়স যখন আট বছর তখন এনি সুলিভান নামক এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গৃহশিক্ষিকা তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেন। এনি প্রথমে আঙুল দিয়ে হেলেনের হাতে বিভিন্ন চিহ্ন এঁকে এবং এরপর বর্ণমালা কার্ড দিয়ে বর্ণমালা শেখান। মাত্র ৮ বছর বয়সেই হেলেন কেলার হাতে আঙুল দিয়ে দাগ কেটে কেটে লেখা, ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়াসহ শব্দ ও বাক্য উচ্চারণ পর্যন্ত শিখে ফেলে। ১০ বছর বয়সে নরওয়েতে উদ্ভাবিত এক পদ্ধতি অনুসরণ করে কথা বলা শেখেন হেলেন।  ১৪ বছর বয়সে হেলেন আমেরিকার নিউইয়র্কের ‘রাইট হুমাসন’ নামক একটি স্কুলে ভর্তি হন। করেন। ১৯০৪ সালে হেলেন রেডক্লিফ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন।

 

লেখক হেলেন কেলার:

হেলেন কেলার একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও দৃষ্টিসম্পন্ন অনেক জ্ঞানী লোকের চেয়ে বই পড়ার দিক দিয়ে অনেকটা এগিয়ে। পাশাপাশি হেলেন কেলার ১২টি বইও লিখেন। তার লেখা বইগুলোর মধ্যে রয়েছে - হচ্ছে—দি স্টোরি অব মাই লাইফ, লেট আস হ্যাভ কেইথ, দি ওয়ার্ল্ড আই লিভ ইন, ওপেন ডোর ইত্যাদি।

 

চলচ্চিত্রকার হেলেন কেলার:

হেলেন কেলার বাক-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অভিশপ্ত বিড়ম্বনা জীবনের বিষাদের ওপর একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। চলচ্চিত্রে তার নিজের ভূমিকায় তিনি নিজেই অভিনয় করেছেন।

 

সংগীতজ্ঞ হেলেন কেলার:

তিনি বাক-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী ছিলেন অথচ স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে বেশি সঙ্গীত উপভোগ করতে পারতেন। তার সঙ্গীত উপভোগ করার আশ্চর্য পদ্ধতি ছিল। তিনি বাদ্যযন্ত্রের ওপর হাত রেখেই বলে দিতে পারতেন তাতে কি ধরনের সুর বাজছে। হাতের স্পর্শ দিয়ে তিনি শ্রবণের কাজ করতেন আশ্চর্য বুদ্ধিমত্তা দ্বারা। গায়ক-গায়িকার কণ্ঠে হাত দিয়ে অনায়াসে বলতে পারতেন কি সঙ্গীত গাইছে।

 

ব্যতিক্রম কিছু গুণ:

তার এমন আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল যে, বহুদিনের পরিচিত মানুষের সঙ্গে করমর্দন করে বলে দিতে পারতেন তার পরিচয়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে তিনি নৌকা চালাতে পারতেন। নদীতে সাঁতার কাটতে পারতেন, নৌকা বাইতে পারতেন, দাবা ও তাস খেলতে পারতেন। ঘরে বসে সেলাই করতে পারতেন।

 

সমাজ সেবক হেলেন কেলার:

হেলেন ১৯১৫ সালে জর্জ কেসলারকে সাথে নিয়ে “হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল” নামের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থাটি এখনও বাক-শ্রবণ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি ব্যক্তিদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। পরবর্তীতে ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের অনুরোধে হেলেন কেলার বিভিন্ন হাসপাতালে যুদ্ধাহত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নাবিক ও সৈনিকদের দেখতে যেতেন এবং শান্তি ও আশার বাণী শোনাতেন। যুদ্ধ শেষ হলে বাক-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশ্বব্যাপী এক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়াস পান। ১৯৫৯ সালে হেলেন কেলার জাতিসংঘ কর্তৃক বিশেষ সম্মানে ভূষিত হন।

 

মৃত্যু:

১৯৬৮ সালের ১ জুন নামের শেষে অসংখ্য বিশেষণের অধিকারী হেলেন কেলার মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্বব্যাপী বাক-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারীর স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখার জন্য এবং অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৭ সালে ‘আমেরিকান এসোসিয়েশন ফর দি ওভারসিজ ব্লাইন্ড’ গঠন করা হয়েছে। পরে নাম পরিবর্তন করে ‘হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল’ করা হয়েছে।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
হুমায়ুন আহমেদবাংলা সাহিত্যাকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র
কাজী নজরুল ইসলামবাংলার জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি
রাজা রামমোহন রায়ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ
মৃণাল সেনবিখ্যাত বাঙালী চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্র নাট্যকার ও লেখক
বেবী মওদুদবিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখিকা
ড. মুহাম্মদ ইউনুসশান্তিতে নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরবাংলা সাহিত্যের দিকপাল
নেলসন ম্যান্ডেলাদক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী অবিসংবাদিত নেতা
ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়াজন্ম: ১৬ ফেব্রু. ১৯৪২ মৃত্যু: ৯ মে, ২০০৯
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার১৯১১ সালের ৫ই মে জন্মগ্রহণ করেন
আরও ৩০ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি