পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

রাজা রামমোহন রায়

রাজা রামমোহন রায় ছিলেন বাংলাদেশের তথা ভারতবর্ষের প্রথম আধুনিক অগ্রদৃষ্টিমান চিন্তানায়ক ও কর্মনেতা ও রাজা ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। বাংলা গদ্যের জনকও তিনি।তৎকালীন রাজনীতি, জনপ্রশাসন, ধর্মীয় ও শিক্ষাক্ষেত্রে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। তিনি সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন সতীদাহ প্রথা বিলুপ্তের প্রচেষ্টার জন্য। ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুঘল সম্রাট রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধিতে ভূষিত করেন।

 

জন্ম:

রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২২ মে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার রাধানগরে এক সম্ভ্রান্ত কুলীন (বন্দোপাধ্যায়) ব্রাক্ষ্মণবংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রামকান্ত এবং মাতার নাম তারিনী।

 

পড়াশোনা:

রাজা রামমোহন রায় পাটনায় আরবি ও কাশিতে সংস্কৃত শিক্ষা লাভ করেন। নিজ গ্রাম পালপাড়ার নন্দকুমার বিদ্যালয় ও হরিহরানন্দ তীর্থস্বামী কিশোর বয়সেই তার মনে আধ্যাত্মিক চিন্তার বীজ রোপণ করেন। রাজা রামমোহন রায় উত্তমরূপে ফার্সিও অধ্যয়ন করেন। এছাড়া সিভিলিয়ানদের কাছ থেকে ইংরেজি শিক্ষাও লাভ করেন।

 

কর্মজীবন:

১৭৯৬ খ্রীষ্টাব্দের পর রামমোহন অর্থোপার্জনে মন দেন।  ১৮০৩ সাল থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী ছিলেন। কলকাতায় প্রায়ই আসতেন এবং নবাগত সিভিলিয়ানদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাঁদের নানা বিষয়ে সাহায্য করেন। ঈস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির কাজে সিভিলিয়ান কর্মচারীদের মধ্যে জন ডিগবীর সঙ্গে তাঁর সর্বাধিক ঘনিষ্ঠতা হয়। কোম্পানির কাজে এর অধীনে তিনি দেওয়ানরূপে রং পুরে কাজ করেন - মোটামুটি ১৮০৫ থেকে ১৮১৪ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে তিনি দু'বার ভূটান সীমান্তে যান কোম্পানির হয়ে দৌত্যকার্যে। এর আগে ১৮০৩ যশোরে কালেক্টর উডফোর্ডের অধীনে দেওয়ানরূপে কাজ করেন।

 

সমাজ সংস্কার:

রাজা রামমোহন রায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন। তাই তিনি একেশ্বর উপাসনার পথ দেখাতে ‘আত্মীয় সভা’ (১৮১৫) প্রতিষ্ঠা করেন। এই সভাই পরে তিনি ‘ব্রাহ্মসমাজ’ (১৮২৮) নাম ও রূপ দেন। তিনি নিজ ব্যায়ে গ্রন্থ প্রকাশ করে বিতরণ করেন। একসময় হিন্দু সমাজে কোনো মেয়ের স্বামী মারা গেলে তাঁকে তাঁর স্বামীর সঙ্গেই চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো। এই প্রথাকে বলা হতো 'সতীদাহ প্রথা'। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই প্রথার বিরুদ্ধে যাঁরা আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তাঁদের প্রধান নেতা ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। রামমোহন রায়দের আন্দোলনের ফলেই তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৮২৯ সালে আইন করে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করে। বহু-বিবাহ ও বর্ণভেদ প্রথার বিরুদ্ধেও রাজা রামমোহন রায় তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যান। নারী ও পুরুষের সমানাধিকার । নারীরা যাতে স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে তার জন্য বিষয়সম্পত্তিতে নারীদের উত্তরাধিকারের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারেও রামমোহন রায়ের  চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। যদিও নারীশিক্ষা বিস্তারে তাঁর আগ্রহের অভাব আমাদের কিছুটা অবাক করে। ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে কলকাতার গরানহাটায় গোরাচাঁদ বসাকের বাড়িতে হিন্দু কলেজ স্থাপন করেন। পরে তিনি হেদু্য়ার কাছে ইংরেজি শিক্ষার জন্য একটি এ্যাংলো-হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

 

মৃত্যুবরণ:

রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মেনিনজাইটিস – এ আক্রান্ত হয়ে বিস্ট্রলের কাছে স্টেপলেটনে মৃত্যুবরণ করেন। বিস্ট্রলে আরনস ভ্যাল সমাধিস্থলে তাকে সমাহিত করা হয়।

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
হুমায়ুন আহমেদবাংলা সাহিত্যাকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র
কাজী নজরুল ইসলামবাংলার জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি
রাজা রামমোহন রায়ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ
মৃণাল সেনবিখ্যাত বাঙালী চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্র নাট্যকার ও লেখক
বেবী মওদুদবিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখিকা
ড. মুহাম্মদ ইউনুসশান্তিতে নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরবাংলা সাহিত্যের দিকপাল
নেলসন ম্যান্ডেলাদক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী অবিসংবাদিত নেতা
ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়াজন্ম: ১৬ ফেব্রু. ১৯৪২ মৃত্যু: ৯ মে, ২০০৯
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার১৯১১ সালের ৫ই মে জন্মগ্রহণ করেন
আরও ৩০ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি