পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

মৃণাল সেন

মৃণাল সেন বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্র নাট্যকার ও লেখক হিসেবে পরিচিত। ভারতের চারবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নির্মাতা ২০০৫ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কারও লাভ করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এ চলচ্চিত্রকার পাল্টে দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের ধারা।

 

জন্ম ও পড়াশোনা:

মৃণাল সেন ১৯২৩ সালের ১৪ মে ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। নিম্ন মাধ্যমিক পাশের পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে তিনি কলকাতা পাড়ি জমান। স্কটিশ চার্চ কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা বিষয়ে পড়াশোনা করেন।

 

সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও কর্মজীবন:

ছাত্রাবস্থায় থাকাকালেই মৃণাল সেন কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক শাখার সাথে যুক্ত হন। তবে তিনি কখনও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন নি। চল্লিশের দশকে মৃণাল সেন সমাজবাদী সংস্থা ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন (আইপিটিএর) এর সাথে যুক্ত হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পড়াশোনা শেষ করে মৃণাল সেন সাংবাদিক, ওষুধ বিপণনকারী এবং চলচ্চিত্রে শব্দ কলাকুশলী হিসেবে কাজ করেন।

 

চলচ্চিত্র জীবন:

মৃণাল সেন তার প্রথম ফিচার ফিল্ম “রাতভোর” তৈরি করেন ১৯৫৩ সালে। তবে এই ছবিটি তার জাত চেনাতে পারেনি। পরবর্তীতে তার ২য় চলচ্চিত্র “নীল আকাশের নীচে” – এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণে মৃণাল সেনের দক্ষতা কিছুটা ফুটে ওঠে। এই চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে মৃণাল সেন স্থানীয়ভাবে কিছুটা পরিচিতি লাভ করেন। এরপর এর থেমে থাকা নয়। মৃণাল সেন পরিচালিত ৩য় ছবির “বাইশে শ্রাবণ” এর মাধ্যমে তিনি অর্জন করে নেন আন্তর্জাতিক পরিচিতি। এভাবে “ভুবন সোম”, “ইন্টারভিউ”, “ক্যালকাটা ৭১”, “পদাতিক”, “এক দিন প্রতিদিন”, “খারিজ”, “আকালের সন্ধানে”, “মহাপৃথিবী”, “অন্তরীন”, “মহাভুবন” নামে বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। “ইন্টারভিউ”, “ক্যালকাটা ৭১”, “পদাতিক” এই তিনটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মৃণাল সেন সেসময়কার কলকাতার অস্থির চিত্র তুলে ধরেছিলেন। মৃণাল সেন পরিচালিত “খারিজ” চলচ্চিত্রটি ১৯৮৩ সালে কানের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরষ্কার পেয়েছিল। মৃণাল সেনের “আকালের সন্ধানে” চলচ্চিত্রটিতে ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের দুর্ভিক্ষকে জীবন্ত করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৮১ সালের বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার হিসাবে রুপোর ভালুক জয় করে।     

 

পুরস্কার ও সম্মাননা:

জীবনবোধ ও সৃজনশীল চিন্তাশক্তির অধিকারী মৃণাল সেন তার প্রতিটি চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তুলেছেন জীবনের নানা দিক। এর ফলশ্রুতিতে তিনি অর্জন করতে সক্ষম হন দর্শকদের ভালোবাসা, বিভিন্ন সম্মাননা ও পুরষ্কার। ভারত ও ভারতের বাইরে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সাম্মানিক ডক্তরেট ডিগ্রি প্রদান করেন। ১৯৮১ সালে ভারত সরকার মৃণাল সেনকে “পদ্মভূষণ” পুরষ্কার প্রদান করেন। ২০০৫ সালে লাভ করেন “দাদাসাহেব ফালকে” পুরষ্কার। তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ অবধি ভারতীয় সংসদের সাম্মানিক সদস্যপদ লাভ করেন। ২০০০ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁকে অর্ডার অফ ফ্রেন্ডশিপ সম্মানে ভূষিত করেন।

মৃণাল সেনের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট: www.mrinalsen.org

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
হুমায়ুন আহমেদবাংলা সাহিত্যাকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র
কাজী নজরুল ইসলামবাংলার জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি
রাজা রামমোহন রায়ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ
মৃণাল সেনবিখ্যাত বাঙালী চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্র নাট্যকার ও লেখক
বেবী মওদুদবিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখিকা
ড. মুহাম্মদ ইউনুসশান্তিতে নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরবাংলা সাহিত্যের দিকপাল
নেলসন ম্যান্ডেলাদক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী অবিসংবাদিত নেতা
ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়াজন্ম: ১৬ ফেব্রু. ১৯৪২ মৃত্যু: ৯ মে, ২০০৯
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার১৯১১ সালের ৫ই মে জন্মগ্রহণ করেন
আরও ৩০ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি