পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস

১ লা জুন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে এই দিবসটি পালন করা হয়। পৃথিবীর সব মানুষের জন্য পুষ্টিকর ও টাটকা দুধ যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খাদ্য, তার গুরুত্ব বোঝানোর জন্যই জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এই দিবসটি পালন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিবসটি পালনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। যেমন - ১১ জানুয়ারী। দিনটির বিশেষত্ব হচ্ছে, ১৮৭৮ সালের এই দিনেই ওয়ারেন গ্লাস কোম্পানি প্রথম দুধ বোতলজাত করে বিপণন শুরু করে। সাধারণ দুধের চেয়ে বোতলজাত দুধ যে অপেক্ষাকৃত বিশুদ্ধ, তাও এ দিন থেকেই প্রচার করা শুরু হয়। আর এ কারণে দিনটিকে বিশেষভাবে স্মরণ রাখার জন্য সারাবিশ্বে পালিত হয় ‘দুগ্ধ দিবস’ হিসেবে। অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেন’ ২০০১ সাল থেকে জুনের ১ তারিখ দিনটি পালন করে আসছে। ২০০০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি পালন করে ‘বিশ্ব স্কুল দুগ্ধ দিবস’ হিসেবে। যুক্তরাজ্যে দিবসটি পালন করা হয় প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের যে কোনো দিনে। জুনে ‘দুগ্ধ সপ্তাহ’ পালন অবশ্য প্রথম শুরু হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের হার্ভার্ডে, ১৯৪২ সালে। পাকিস্তানের উত্তরে কৈলাস পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দারাও ‘দুগ্ধ দিবস’ পালন করে থাকে। বসন্তকালে পালিত সে উৎসবটি ‘জোসি’ নামে পরিচিত।

 

দুধের গুরুত্ব:

আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি পুষ্টি উপাদান একমাত্র দুধেই রয়েছে। যার ফলে দুধ শুধু পানীয়ই নয়, খাদ্য তালিকায় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ খাবার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসহ আরও ১৪টি রাজ্যে দুধকে করেছে রাষ্ট্রীয় পানীয়। দুধই একমাত্র প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংক, যা রোগ প্রতিরোধ করে আর তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে শক্তিও জোগায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে আগের দিনে মানুষ দীর্ঘজীবী ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার গোপন রহস্য ছিলো তখনকার মানুষ নিয়মিত টাটকা দুধ পান করতো। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও দিনে অন্তত: দুবার স্বাস্থ্যকর দুধ পান করার পরামর্শ দেন।

 

দুধ সংরক্ষণ:

ফুটানো দুধ; সাধারণ তাপমাত্রায় তরল দুধ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে নষ্ট হয়। তাই দুধ পান করার আগে ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে নেওয়া হয়। দুধ সংরক্ষণের এটিই ঘরোয়া এবং প্রচলিত পদ্ধতি যা আমরা সচরাচর দেখতে পাই। এতে দুধের পুষ্টিগুণের একটা বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়।

 

পাস্তুরিত দুধ: ১৫ সেকেন্ড সময় ধরে ৭২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড – এ দুধ ফুটানো হয়। এতে ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ নির্মূল হয় না বলে পান করার আগে আবার ফুটাতে হয়। এতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দুধের পুষ্টিগুণ হারিয়ে যায়।

 

ইউএইচটি (UHT) দুধ: ইউএইচটি (UHT) প্রক্রিয়া বিশ শতকে দুধ সংরক্ষণের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়া, যা দুধের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অক্ষুন্ন রেখেই দুধকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু হতে মুক্ত করে। ইউএইচটি (UHT) প্রক্রিয়াটি সাধারণত বাণিজ্যিকভাবে করা হয়ে থাকে।

 

উপকারিতা:

দাঁতের ক্ষয়রোধ:  

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দাঁতের গঠন ও বিকাশে উপকারী। দুধে প্রচুর পরিমাণে থাকা আমিষ ‘ক্যাসিন’ দাঁতের এনামেলের উপর প্রতিরোধী পাতলা স্তর গড়ে তোলে। মুখের ভেতর দাঁত এসিডের সংস্পর্শে আসলে এটি তখন দাঁত থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের ক্ষয় রোধ করে। দন্তবিশেষজ্ঞরা বলেন যে, প্রতি বেলা আহারের মধ্যবর্তী সময়ে পানি বাদে দুধই হচ্ছে আরেকটি নিরাপদ পানীয়। কারণ দেখা গিয়েছে দুধ দাঁত ক্ষয়ের সবচে’ নাজুক অবস্থাতেও দাঁতের ক্ষয়সাধন করে না।

 

হাড়ের স্বাস্থ্য:

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের গঠন ও বিকাশে দরকারি। ছোটবেলা থেকে শুরু করে সারা জীবন দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ হাড়কে করে মজবুত আর রক্ষা করে ‘ওসটিওপোরোসিস’ নামের হাড়ক্ষয়কারী রোগ থেকে। যদি দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিনের আহারে না থাকে, তবে ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দিতে পারে যা বিশেষ করে মহিলাদের আর বয়স্কদের চিন্তার বিষয়। ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে ‘ওসটিও আর্থাইটিস’ নামক হাড়ক্ষয়কারী রোগ হতে পারে।

 

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ:

শুধু ফল ও সবজি খেলে যে উপকার হয়, তারচেয়ে ফল, সবজি আর স্বল্প চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার নিয়মিত পরিমাণে গ্রহণ করলে তা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অধিক কার্যকরী- এমনটিই ফুটে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায়। দুগ্ধজাত খাবারে রয়েছে ‘উচ্চমানসম্পন্ন আমিষ’ যা মানবদেহের জন্য দরকারি। দুগ্ধজাত আমিষ শরীরে অ্যামাইনো অ্যাসিড সরবরাহের মাধ্যমে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কমতি থাকা ‘সেরিল’ ও সবজিজাত সাধারণ মানের আমিষের পুষ্টিমান বাড়িয়ে তোলে।

 

হৃদরোগ প্রতিরোধ:

বেশকিছু গবেষণায় দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণের সাথে হৃদরোগের লক্ষণসমূহ হ্রাসের একটি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। দেখা গেছে যারা স্বল্প পরিমাণে দুধ পান করেছিলেন তাদের চাইতে যারা বেশি পরিমাণে দুধ (বিশেষত সর বাদ দিয়ে) পান করেছিলেন তাদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা কম। এক্ষেত্রে আরো অন্যান্য নিয়ামক থাকতে পারে, তবে স্বাস্থ্য ও অসুস্থতা সংক্রান্ত এক গবেষণায় দেখা গেছে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণের সাথে হৃদরোগের ঝুঁকিহ্রাসের একটা সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ রক্তে বাজে কোলেস্টরেলের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারে আর ভালো কোলেস্টরেলের পরিমাণ বাড়াতে পারে। অধিকতর বাজে কোলেস্টরেল আর কম পরিমাণ ভালো কোলেস্টরেল দুটোই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

 

স্থূলতা রোধ:

প্রচলিত ধারণার বিপরীতে জানা গেছে যারা দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করেন না তাদের চাইতে যারা দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করেন তারা তুলনামূলক ঝরঝরে শরীরের অধিকারী হয়ে থাকেন। পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে ক্যালরি নিয়ন্ত্রিত সুষম খাবারের অংশ হিসেবে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করলে ওজন হ্রাস ত্বরান্বিত হয়ে থাকে, বিশেষ করে তলপেট থেকে, যেখানটায় বেশি চর্বি থাকাটা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

 

টাইপ-ডায়াবেটিস:  

নিয়মিত কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পায়; যা এখন শুধু বয়স্ক নয়, শিশু-কিশোরদেরও সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবারের এই উপকারিতার পেছনে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ অন্যান্য দরকারি পুষ্টিগুণের সমন্বিত অবদান আছে নয়তো এতে থাকা স্বল্প গ্লাইসেমিক সূচক রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ৩৭,০০০ মধ্যবয়সী মহিলার মধ্যে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যারা পর্যাপ্ত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের   ঝুঁকি কম ছিল। ৩,০০০ অতিরিক্ত ওজনের বয়স্কদের মাঝে গবেষণায় দেখা গেছে পরিশোধিত চিনি ও শর্করা গ্রহণ না করে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ওজনের বয়স্কদের শরীরে টাইপ-২ ডায়াবেটিস জেঁকে বসাটা প্রতিরোধ করতে পারে।

 

ডিহাইড্রেশন রোধ:

শরীরে জলশূন্যতা হলে দুর্বল মনোযোগ, স্মরণশক্তির এলোমেলো ভাব, অনুভূতির অবসাদগ্রস্ততা আর ভালো না লাগার বোধ হতে পারে। তরল খাবার হিসেবে পানির পাশাপাশি দুধ সত্যিই দারুণ, যা শুধু শরীরের জলীয় মাত্রার পূরণ করে না, সেইসাথে প্রচুর পুষ্টিমান দিয়ে থাকে। আসলে দুধ শুধু প্রয়োজনীয় তরল খাদ্যই নয় সুস্বাদু ও মজাদারও বটে। পারিবারিকভাবে দুধ আমাদের নিত্যসঙ্গী। দুধ ছাড়া আমাদের একমুহূর্ত চলে না। প্রতিটি সময়ে চা, কফি, মিস্টান্ন তৈরিতে প্রথমেই দরকার হয় দুধ। আমাদের দেশে বহুল জনশ্র“তি আছে, দুধে ভাতে বাঙালি তাই এই দুধ ছাড়া কি আমাদের চলে।

 

জটিল রোগ প্রতিরোধ:

বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, পর্যাপ্ত দুধ পান মলাশয় ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক কাজ করে। ৪৫ হাজার সুইডেনবাসীর মধ্যে এক গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষদের মধ্যে যারা দেড় বা তার বেশি গ্লাস দুধ পান করেছিলেন; তাদের রোগ-শোক হবার ঝুঁকি, যারা সপ্তাহে দুই বা তার কম গ্লাস দুধ পান করেছিলেন তাদের চাইতে ৩৫% কম। পাশাপাশি ৪০ হাজার সুইডিশ মহিলার মধ্যে এক জরিপে দেখা গেছে যারা ছোটবেলা থেকে বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত দুধ পান করে আসছেন তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কম। মলাশয়ের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে ক্যালসিয়াম ও দুধে স্বাভাবিকভাবে সৃষ্ট কনজুগেটিভ লিনোলিক এসিড (সি এল সি) প্রতিরোধমূলক কাজ করে থাকে বলে বিবেচিত হয়। যারা নিয়মিত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে মলাশয়ের ক্যান্সার হবার হার কম।

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
ইংরেজী নববর্ষ১ জানুয়ারী এই দিবসটি পালন করা হয়
মহান বিজয় দিবস১৬ই ডিসেম্বর এই দিবসটি পালন করা হয়
আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস২২ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস১৯ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব জাদুঘর দিবস১৮ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস১৭ই এপ্রিল এই দিবসটি পালন করা হয়
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস১৬ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব পরিবার দিবস১৫ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব মা দিবসমে মাসের ২য় রবিবার এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস৮ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
আরও ৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি