পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

ইংরেজী নববর্ষ

বছর ঘুরে আবার এলো নতুন একটি বছর। পুরাতন বছরের জীর্ণতাকে দূরে ঠেলে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে চলাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য। অনলাইন ঢাকা গাইডের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি রইলো ইংরেজী ২০১৬ নববর্ষের শুভেচ্ছা। আসছে বছর সকলের জন্য ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসুন এই শুভকামনা রইলো সকলের প্রতি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিউ ইয়ার বা নববর্ষ পালনের রীতিনীতি কিন্তু এক নয়। কিছু কিছু মিল থাকলেও নববর্ষের অনুষ্ঠানে সঙ্গে যোগ হয় দেশীয় ঐতিহ্য। নববর্ষের কিছু প্রথা আছে অবাক করা এবং মজার। যেমন-
 

  • থাইল্যান্ডে একজন আরেকজনের গায়ে পানি ছিটিয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানায়।
  • স্পেনে রাত ১২ টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১২ টা আঙ্গুর খেয়ে নববর্ষের প্রথম ক্ষনটি উৎযাপন করা হয়।
  • আর্জেন্টিনায় নববর্ষের আগের দিন রাত্রে পরিবারের সব সদস্য একসঙ্গে খাবার টেবিলে বসে আহার করে। তারপর বড়রা নাচের অনুষ্ঠানে চলে যায়। ভোর পর্যন্ত চলে এ নাচের অনুষ্ঠান। নববর্ষের প্রথম দিন নদী বা পুকুরে সাঁতার কেটে তারা নববর্ষ উৎযাপন করে।
  • ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো সমুদ্র সৈকতে নববর্ষের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানটি হয়। এর অন্যতম আকর্ষণ চোখ ধাঁধাঁনো আতশবাজির প্রদর্শনী। এ দিন অধিকাংশ লোকই সাদা পোষাক পরিধান করে। সমুদ্রে সাতটি ডুব দিলে এবং সাতটি ফুল ছুড়ে দিয়ে তারা মনে করে বছরটি খুব ভালো কাটবে বলে। এ উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় দুই মিলিয়ন পর্যটকরা যোগ দেয়।
  • কোরিয়াতে নববর্ষ শুরুর সময় কেউ ঘুমায় না। এ সময় ঘুমালে নাকি চোখের ভ্রু সাদা হয়ে যায়! রাত বারটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে টিভিতে ৩৩ বার ঘন্টা বাজানো হয়। কোরিয়ার ৩৩ বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এটি করা হয় । কোরিয়াতে প্রায় সবাই সূর্যোদয় দেখে। সূর্যের আলো ছড়িয়ে পরার সময় একজন আরেকজনকে শুভেচ্ছা জানায়।
  • মেক্সিকোতেও ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১২ বার ঘন্টা বাজানো হয়। এ সময় প্রতি ঘন্টা ধবনির সঙ্গে একটি করে আঙ্গুর খাওয়া হয়। তারা বিশ্বাস করে এ সময় যা কামনা করা হয় তাই পূরণ হয়।
  • ভিয়েতনামে ভোর হওয়ার সময় প্রতি নববর্ষে সবাই গুরুজনদের কাছে দীর্ঘায়ূ কামনা করে আশীর্বাদ নেয়।

 

নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস:

সারা বিশ্বব্যাপী পালিত উৎসবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন উৎসবটি হলো বর্ষবরণ উৎসব। আজ থেকে প্রায় ৪,০০০ বছর আগে খ্রিস্টপূর্ব ২,০০০ অব্দে মেসোপটেমীয় সভ্যতায় সর্বপ্রথম বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয়। তবে সবাই নয়। মেসোপটেমীয় সভ্যতা ৪ ভাগে বিভক্ত। (১) সুমেরীয় সভ্যতা, (২) আসিরীয় সভ্যতা, (৩) ক্যালডীয় সভ্যতা, (৪) ব্যাবিলনীয় সভ্যতা। এদের মধ্যে সর্বপ্রথম ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় নতুন বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয়। মেসোপটেমীয় সভ্যতা সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। বর্তমান ইরাককে প্রাচীনকালে মেসোপটেমিয়া বলা হতো।

 

বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বব্যাপী ১ লা জানুয়ারি তারিখে নতুন বর্ষবরণ করা হলেও ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় বসন্তকালের প্রথম দিনে নতুন বর্ষবরণ করা হতো জাকজমকের সাথে। এসময় গাছে গাছে নতুন করে পাতা গজাতো, ফুলের কলিরা ফুটতে শুরু করতো, পাখিরা ডানা ঝাপটে সারাদিন এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াতো। প্রকৃতির এই নতুন রূপ ধারণকেই চিহ্নিত করে বসন্তের প্রথম দিনে তারা নতুন বছর উদযাপন করতো।

 

বর্তমান সময়ের মতো সেসময় ক্যালেন্ডার ছিলো না। সেসময় চাঁদ দেখে বছর গণনা করা হতো। বর্তমান সেময়ে যেমন ঈদের চাঁদ দেখার মতোই সেসময় চাঁদ দেখে বর্ষ গণনা শুরু হতো। বসন্তের চাঁদ আকাশে উঠা মাত্র শুরু হয়ে যেতো বর্ষবরণের উৎসব। বসন্তের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়ে টানা ১১ দিন এই উৎসব চলতো। প্রতিটি দিন আলাদা আলাদা বিশেষ অর্থ বহন করতো।

 

ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পর রোমান সভ্যতায় নতুন বর্ষ উদযাপন শুরু হয়। তবে ব্যাবিলনীয়দের মতো চাঁদ দেখে নয়। তাদের তৈরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তারা নতুন বর্ষ উদযাপন করতো। ব্যাবিলনীয়রা বসন্তের ১ম দিনটিকে চিহ্নিত করে নতুন বর্ষ উদযাপন করলেও রোমান সভ্যতায় নববর্ষ পালন করা হতো ১লা মার্চ। কারণ রোমান ক্যালেন্ডারে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি বলতে কোনো মাস ছিলো না। মানে তাদের ক্যালেন্ডারে ১০ মাসে এক বছর গণনা করা হতো। পরবর্তীতে সম্রাট নুমা পন্টিলাস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস দুটিকে রোমান ক্যালেন্ডারে সংযুক্ত করেন। উল্লেখ্য, রোমানদের নিজস্ব ক্যালেন্ডার থাকলেও তাতে কোনো তারিখ ছিল না। তারাও চাঁদের বিভিন্ন অবস্থা দেখে তারিখ নির্ধারণ করতো। চাঁদ ওঠার সময়কে বলা হতো ক্যালেন্ডস, আর সম্পূর্ণ চাঁদকে বলা হতো ইডেস, চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলতো নুনেস।

 

রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার ক্যালেন্ডস, ইডেস ও নুনেসের ঝামেলা শেষ করে রোমান ক্যালেন্ডারে তারিখের ব্যবস্থা করেন। সে অনুযায়ী ৩৫৫ দিনে এক বছর হিসাব করা হতো। সেসময় চাঁদের উপর ভিত্তি করে বছর গণনা করা হতো বলে বর্তমান সময় থেকে ১০ দিন কমে বছর হিসাব করা হতো। চাঁদের হিসাবে প্রতিমাসে দিন হয় সাড়ে ২৯টি। এ জন্যই আরবী হিজরী সালের মাসগুলো ২৯ কিংবা ৩০ দিনে হয়। বর্তমান সময়ে সূর্য  দ্বারা দিন গণনা করা হয় বলে এখন ৩৬৫ দিনে এক বছর হয়।

 

চাঁদের উপর ভিত্তি করে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছর হিসাব করার ফলে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এ সমস্যা থেকে কৃষকদের মুক্তি দিতে হোঞ্চাস হেডাস নামক এক রোমান ফেব্রুয়ারি মাসের পর অতিরিক্ত ১টি মাস যোগ করেন। এতে বিপত্তি আরও বেগতিক হয়ে দেখা দেয়। এ অবস্থায় জুলিয়াস সিজারের মাথায় নতুন একটি বুদ্ধি খেলা করে। তিনি ভেবে দেখেন চাঁদের উপর ভিত্তি করে হিসাব না করে সূর্য দিয়ে হিসাব করলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। সে অনুযায়ী সেই থেকে চাঁদের পরিবর্তে সূর্য  দিয়ে বছর গণনার সূচনা হয় এবং ৩৫৫ দিনের পরিবর্তে ৩৬৫ দিনে বছর অতিবাহিত হয়। এতো কিছুর পরও নতুন বছরের প্রথম দিন দিন নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের মতভেদ প্রচলিত ছিল। ফলে সেসময় স্থানভেদে আলাদা আলাদা তারিখে নতুন বর্ষ পালন করা হতো।

 

ইতিহাস থেকে আরও জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে বর্ষবরণ করা হতো ২৬ মার্চ তারিখে। এ নিয়েও নানা ধরনের ঝামেলা হতে থাকতো। তাই সম্রাট নুমা পন্টিলাস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসকে ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করে ১লা জানুয়ারি তারিখটিকে বছরের ১ম দিন হিসেবে নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু গোড়া রোমানরা বেকে বসেন। তারা তাদের মতো করে ১ লা মার্চ তারিখেই নতুন বর্ষ পালন করতে থাকেন। পরবর্তীতে জুলিয়াস সিজারের ৩৬৫ দিনে বছর হিসাব করার ঘোষণা এলে এবং জানুয়ারির ১ তারিখকে বর্ষ শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হলে এই সমস্যার সমাধান হয়।

 

সেই থেকে জানুয়ারির ১ তারিখ নতুন বর্ষ পালন করা হচ্ছে এরকমটি ভাবলে ভুল হবে। কেননা রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের ক্যালেন্ডারেও কিছুটা ভুল ছিলো। অ্যালোসিয়াস লিনিয়াস নামক একজন ডাক্তার এই সমস্যার সমাধান করেন। পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি তার কাছে রক্ষিত এই ক্যালেন্ডার জনসম্মুখে নিয়ে আসেন বলে এই ক্যালেন্ডারের নামকরণ করা হয় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। আর অ্যালোসিয়াস লিনিয়াস রয়ে যান লোকচক্ষুর আড়ালেই। আমরা বর্তমানে যে ক্যালেন্ডারটি ব্যবহার করছি সেটিই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। ১৫৮২ সালে এই ক্যালেন্ডারটি প্রস্তুত করা হয়। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ধীরে ধীরে অন্যান্য জাতির লোকেরাও জানুয়ারির ১ম তারিখে নতুন বর্ষ পালন করতে শুরু করে। এভাবে চলতে চলতে এ প্রথা জাতি থেকে জাতির গন্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে। যেই ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে।       

 

বিশেষ অনুরোধ: বর্ষবরণের নামে অতিরিক্ত উচ্ছৃঙ্খলা ও নোংরামী পরিহার করুন। আসুন আমরা সবাই মিলে নতুন বছরকে সুন্দরভাবে গ্রহণ করি।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
ইংরেজী নববর্ষ১ জানুয়ারী এই দিবসটি পালন করা হয়
মহান বিজয় দিবস১৬ই ডিসেম্বর এই দিবসটি পালন করা হয়
আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস২২ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস১৯ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব জাদুঘর দিবস১৮ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস১৭ই এপ্রিল এই দিবসটি পালন করা হয়
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস১৬ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব পরিবার দিবস১৫ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব মা দিবসমে মাসের ২য় রবিবার এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস৮ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
আরও ৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি