পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

মহান বিজয় দিবস

বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে তুলে ধরতে ১৯৭১ সালে তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের মুহূর্তগুলো স্মরণের মধ্য দিয়ে এ দিবসটি উদযাপন করা হয়।


১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেল এ এ কে নিয়াজী ৯৩ হাজার সেনা নিয়ে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ করেন।  চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশের।

 

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে হর্ষোৎফুল্ল এক বিশাল জনতার সামনে, আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষর করলেন পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ইস্টার্ন কমান্ডারের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী। পাকবাহিনীর এই আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষরদান মানেই তো যুদ্ধের বিজয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরাজয় এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের বিজয়ের স্মারক হিসেবে ১৯৭২ সাল থেকেই আমরা প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর ‘বিজয়’ দিবস পালন করে আসছি। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে আর এরকম দ্বিতীয় কোন বিজয় দিবস নেই।

 

সমগ্র জাতি এই দিনে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের কথা, দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে যারা পরাক্রমশালী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতার সূর্য পতাকা ছিনিয়ে এনেছিল। ঐ বিজয়ের পিছনে ছিল কোটি কোটি মানুষের দৃঢ় প্রত্যয় ও অকুণ্ঠ সমর্থন। ছিল ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বহু রাষ্ট্র ও শান্তিকামী মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা।

 

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ  কোন আকস্মিক ব্যাপার ছিল না। বস্তুত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের জন্য পরাধীন ও অবিভক্ত ভারতে জনগণের দীর্ঘ, কখনও রক্তাক্ত এবং কখনও শান্তিপূর্ণ সংগ্রামের ধারাবাহিকতা থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যাবে না।

 

আমাদের পূর্বপুরুষরা-কৃষক-মজুর-মধ্যবিত্ত-বুদ্ধিজীবী-ব্যবসায়ী এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ স্বপ্ন দেখতেন-ক্ষুধা, দারিদ্র, শোষণ-বঞ্চনার অবসান হবে। ভূমিহীন ও ভাগচাষীরা জমির স্বত্ব-স্বামিত্ব পাবে, পাবে মানবিক মর্যাদা। দেশে শিল্পায়ন হবে, বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। কেউ নিরক্ষর থাকবে না; শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে দেশ এগিয়ে যাবে। স্কুল-কলেজ হবে।

 

নারী সমাজ পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম-অংশীদার হিসেবে জাতীয় উন্নয়নে, রাষ্ট্রীয় সিন্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ যাবে। প্রতিটি গ্রামে উন্নতমানের রাস্তা-ঘাট হবে। স্বাস্থ্যসম্মত সুপেয় পানির ব্যবস্থা হবে। মানুষ চিকিৎসা সেবার সুযোগ পাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সর্বোপরি আমাদের দেশের ভালোমন্দের ব্যাপারে আমরাই সিদ্ধান্ত নেব। বস্তুত কেবল রাজনৈতিক পরাধীনতার শৃংখল থেকেই মুক্তি নয়, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম পরিব্যাপ্ত ছিল জীবনের সর্বক্ষেত্রে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, আদর্শগত, সামাজিক-সাংস্কৃতিকসহ সব ফ্রন্টেই বিস্তৃত ছিল মুক্তির সংগ্রাম।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের জোয়াল ভেঙে জাতীয় স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের প্রবল জোয়ার যেমন আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে প্রবলতর করেছে, তেমনি সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার শক্তিশালী উত্থানের প্রভাব সেই সংগ্রামে যুক্ত করেছে সামাজিক মুক্তির উপাদান। ষাটের দশকে আলজেরিয়ার মুক্তি সংগ্রাম, পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নাকের ডগায় ফিদেল ক্যাস্ট্রো, চে গুয়েভারার নেতৃত্বে বিপ্লবী কিউবার উত্থান, ভিয়েতনামে মার্কিনবিরোধী মরণজয়ী মুক্তিযুদ্ধ, তানজানিয়া, ঘানা, কঙ্গো, এঙ্গোলা, মোজাম্বিক, কেপভার্দে প্রভৃতি দেশে উপনিবেশবাদ বিরোধী জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের বিজয়ের ফলে একটির পর একটি দেশের স্বাধীনতা অর্জন আমাদের দেশেও বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত হয় সামাজিক মুক্তির প্রশ্ন।

 

পাকিস্তান রাষ্ট্র এবং সেই রাষ্ট্রটির সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল ভাবাদর্শ-আমাদের মুক্তি সংগ্রামের, আমাদের স্বপ্ন পুরণের প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে আমরা পাকিস্তান নামক আরেক বহুজাতিক ধর্ম-সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের শৃংখলে আবদ্ধ হই। শৃংখলিত হয় মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা এবং বাঙালি জাতিসত্তার স্বাতন্ত্র্যের অধিকার। ভাষা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সূচীত তেইশ বছরের জাতীয় আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের ফলে এই কৃত্রিম রাষ্ট্রটি ভেঙে পড়ে। ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ বিলুপ্তি ঘটিয়ে আমরা হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালির প্রথম জাতি-রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি। এই অনন্য সাধারণ অর্জনের দিনটিকেই আমরা ‘বিজয়’ দিবস হিসেবে চিহিৃত করেছি।

 

কিন্তু বিজয়ের ৪১ বছর পর আমরা যখন হিসাব মেলাতে বসি, আমাদের অন্যান্য অর্জনের দিকে চোখ মেলে তাকাই তখন কেবল ওই বিজয়টাই ন হয়ে আসে না; বরং মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে, আমরা আসলে কতটা বিজয়ী হয়েছি? 

 

তারপরও আজ আমাদের হৃদয় গর্বে ভরে যায়, পৃথিবীর সকল দেশের জনগণ প্রতি বছর আমাদের বিজয় দিবসকে স্মরণ করে। এ নদী বিধৌত পলি মাটির মনুষ্যত্ব আর গণতান্ত্রিক সমর্থনে সাধারণ মানুষ কতটা নিবেদিত প্রাণ ও দেশ প্রেমিক হতে পারে এবং কতটা আত্মত্যাগী হতে পারে তা বিশ্ববাসী উপলব্দি করতে পারছে। সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার আর একাত্তরের ৩০ লাখ শহীদ ও তিন লাখ মা বোনের ইজ্জত হারানো শাশ্বত এ বাঙ্গালীর রক্তের ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠা বাংলাদেশ, আজ পরম শ্রদ্ধার দেদীপ্যমান সারা বিশ্বের জনগণের কাছে। আমরা চাই যে লক্ষ্যে এদেশকে আমরা স্বাধীন করেছি তার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হোক। আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শাণিত করে সকল অন্ধকার শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াই। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতার মূল্যবোধকে সব কিছুর উর্ধ্বে তুলে ধরি। তবেই না আমাদের এই বিজয় দিবস পালন স্বার্থক হবে।

 

সকল স্বাধীনতা সৈনিকদের জন্য অনলাইন ঢাকা গাইডের পক্ষ থেকে রইলো সশ্রদ্ধ সালাম ও গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী।  

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
ইংরেজী নববর্ষ১ জানুয়ারী এই দিবসটি পালন করা হয়
মহান বিজয় দিবস১৬ই ডিসেম্বর এই দিবসটি পালন করা হয়
আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস২২ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস১৯ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব জাদুঘর দিবস১৮ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস১৭ই এপ্রিল এই দিবসটি পালন করা হয়
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস১৬ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব পরিবার দিবস১৫ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব মা দিবসমে মাসের ২য় রবিবার এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস৮ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
আরও ৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি