পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

শহীদ নূর হোসেন দিবস

১৯৬১ সালের কোনো এক সময়ে পুরাতন ঢাকার নারিন্দার আকাশে-বাতাসে তার আগমনী কান্নার আওয়াজ ছড়িয়ে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখেছিলেন শহীদ নূর হোসেন। তাদের পৈতৃক নিবাস পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝটিবুনিয়া গ্রামে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকেই নূর হোসেন ও তার পরিবার ৭৯/১ নং বনগ্রাম রোডের এই বাড়িতে থাকতেন। বনগ্রাম এলাকার রাধা সুন্দরী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাশ করার পর নূর হোসেন গ্রাজুয়েট হাই স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু তিনি বেশিদুর পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পারেন নি। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে তাকে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে মটর মেকানিকের কাজে যোগ দিতে হয়েছিল। শহীদ নূর হোসেন এর পিতা মুজিবর রহমান পেশায় একজন স্কুটার চালক ছিলেন। অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও তিনি তার কর্মের মাধ্যমে এদেশের ইতিহাসের পাতায় চির স্মরণীয় হয়ে আছেন।

 

১৯৮৭ সাল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এই আন্দোলনেরই অংশ হিসেবে ১৯৮৭ সালের ১০ই নভেম্বর দেশের সর্বস্তরের জনগণের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের উদ্দেশ্যে ঢাকার রাজপথে বের এক বিশাল মিছিল। এই মিছিলে অসংখ্য মানুষ অংশগ্রহণ করলেও মিছিলের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন সাধারণ পরিবারের খালি গায়ে কালো বর্ণের সেই যুবক নূর হোসেন। বুকে জীবন্ত পোস্তার “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক” এই স্লোগান ধারণ করে মিছিলের অগ্রভাগে নেতৃত্ব দেন নূর হোসেন। জনতার মাঝে সেদিন তিনি ছিলেন সত্যি এক অন্য মানুষ। গণতন্ত্রের নির্ভীক এই সৈনিককে তাই চিহ্নিত করতে স্বৈরচারী এরশাদ সরকারের পুলিশ বাহিনীর খুব বেশি বিলম্ব হয়নি। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের উদ্দেশ্যে বের হওয়া মিছিলটি যখন গুলিস্তান জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এসে পৌছায় ঠিক তখনই মিছিলের উপর শুরু হয় স্বৈরাচারী সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশের অতর্কিত গুলিবর্ষণ। পুলিশের একটি গুলি এসে বিধে মিছিলের সম্মুখভাগে থাকা নূর হোসেন এর বুকে। বায়তুল মোকাররম মূল গেটের কাছে মুহুর্তের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন নূর হোসেন। জীবন যন্ত্রণায় নূর হোসেন যখন ছটফট করছিলেন তখন এক যুবক তাকে একটি রিক্সায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের দোসর পুলিশ আবারও পথে বাধা হয়ে দাড়ায়। নূর হোসেনকে বহনকারী রিক্সাটি যখন গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের কাছে পৌছায় তখন পুলিশের কয়েকটি গাড়ি এসে রিক্সাটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। নিষ্ঠুর পুলিশ সেদিন গুলিবিদ্ধ আহত নূর হোসেনকে রিক্সা থেকে টেনে হিচড়ে নামিয়ে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়। এরপর তাকে আর খুজে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর কোনো এক সময় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বাংলার এই সাহসী সূর্য সন্তান। পরবর্তীতে শোনা যায় ঐদিন গভীর রাতে স্বৈরাচার বিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত আরও দুজন শহীদের সাথে জুরাইন কবরস্থানে মাটি চাপা দেওয়া হয় শহীদ নূর হোসেনকে। শহীদ নূর হোসেনের রক্তদানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তীব্রতর হয় এবং অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।

গণতন্ত্রের এই সাহসী বীর যোদ্ধার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা স্বরূপ নামে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করেছে। তিনি যে স্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন সেই স্থানটিকে তারই নামানুসারে বাংলাদেশের কেন্দ্রবিন্দু জিরো পয়েন্টের নামকরণ করা হয়েছে শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ নূর হোসেন এর একটি মুরাল রয়েছে।   

 

সেদিনের মিছিলের পুরোভাগে থাকা এ অকুতোভয় যোদ্ধা অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশর জন্য বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গেছেন। কিন্তু সেই রক্তশপথ কি গণতন্ত্রকে পুণঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে? আমরা কী সত্যিকার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছি? দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আরও কিছু নূর হোসেনকে ঘুম থেকে আবার জেগে উঠতে হবে দেশকে অসাম্প্রদায়িকতা, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য।

 

সবশেষে স্বৈরাচার বিরোধী গণতন্ত্রের সাহসী এই বীর সেনানীর জন্য রইলো লাখো সালাম। আল্লাহ তাআলা যেনো মরহুমের রুহের মাগফেরাত করেন।
 

আপলোডের তারিখ: ১০ নভেম্বর, ২০১২

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
ইংরেজী নববর্ষ১ জানুয়ারী এই দিবসটি পালন করা হয়
মহান বিজয় দিবস১৬ই ডিসেম্বর এই দিবসটি পালন করা হয়
আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস২২ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস১৯ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব জাদুঘর দিবস১৮ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস১৭ই এপ্রিল এই দিবসটি পালন করা হয়
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস১৬ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব পরিবার দিবস১৫ই মে এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব মা দিবসমে মাসের ২য় রবিবার এই দিবসটি পালন করা হয়
বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস৮ মে এই দিবসটি পালন করা হয়
আরও ৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি