পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

এন.জি.ওর হালচাল ও ক্যারিয়ার

হেলাল হাফিজ বা সুকান্তর লেখায় উঠে আসে, তরুণদের নতুন আশার কথা, নতুন আলোতে সমাজকে নতুনভাবে সাজানোর কথা, বর্তমান সময়ে নতুন নতুন পেশায় তাঁদের সরব উপস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তরুণেরা কখন পথ হারাবে না। একই ভাবে, এন.জি.ও তে তাঁদের উপস্থিতি নতুন আলোর প্রত্যয় জাগায়, নতুন কিছু করে সমাজকে বদলে দেওয়া যাদের জন্য ভালোলাগার এন.জি.ও তাঁদের জন্য আদর্শ জায়গা হতে পারে।

অনেকে এন.জি.ও কর্মী হতে চান আবার অনেক এডভেঞ্চারপ্রিয় তরুণেরা চান নিজেই  এন.জি.ও দিতে, তবে এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার যে, এন জি ও-র কাজে পেশাদারিত্ব প্রয়োজন, শুধু কর্মী হিসেবে পেশাদারিত্ব নয়, নতুন এন.জি.ও গঠনের ক্ষেত্রেও পেশাদারী মনোভাব থাকা জরুরী। এ প্রসঙ্গে, নেচার এনভায়রনমেন্ট অ্যাণ্ড ওয়াইল্ড লাইফ সোসাইটি নামক এন.জি.ওর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী বলেন যে, “আমার মনে হয়, কোনও এন জি ও ‘ওয়ান-ম্যান শো’ হওয়া উচিত নয়। অন্তত চার-পাঁচ জন সমমনস্ক লোকের একটি মূল দল থাকা দরকার, যাতে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করা যায়। কেবল ভলান্টারি ওয়ার্ক দিয়ে খুব বেশি দূর যাওয়া যায় না। তাই ছাত্রদের বলব, এমন এন জি ও-তে কাজ করো, যেখানে পরিশ্রমের মূল্য পাওয়া যায়। যারা নিজেরা এন জি ও শুরু করতে চাইছে, তাদের আর সব কাজ ছেড়ে সংগঠন তৈরি করতে হবে। এন জি ও-র একটি নির্দিষ্ট অবদান থাকতে হবে। গোড়ায় আত্মত্যাগের মনোভাব নিয়ে শুরু করলে পরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। তখন আর অতটা কষ্ট করার প্রয়োজন হয় না”।

অঞ্চিতা ঘটক,( ন্যাশনাল থিম লিডার, উইমেন্স রাইটস, অ্যাকশন এড) আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকালে বলেন, “এন জি ও-তে তারাই কাজ করতে আসুক, যারা মানুষের জীবনে, বা তার চারপাশের জগতে পরিবর্তন আনতে চায়। নিজে সেই পরিবর্তনের শরিক হতে চায়। একটা প্যাশন থাকা খুব দরকার। সমাজে এখন ক্ষমতার বা সম্পদের যে ভারসাম্য রয়েছে, সেটাকে যদি কারও ঠিকঠাক মনে হয়, তা হলে বোধহয় তার এন জি ও-র ক্ষেত্রে না আসাই ভাল। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগের শর্তে ডিগ্রির প্রাধান্য থাকে, কিন্তু মূল কথা হল, উন্নয়নের বিষয়ে নানা সমস্যাকে বুঝতে পারার ক্ষমতা থাকা চাই”।

এন জি ও তে চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা কি থাকা দরকার ও কর্মক্ষেত্র হিসেবে এন.জি.ও কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিতে সাধারণত পোস্ট গ্র্যাজুয়েট চাওয়া হয়, সমাজবিজ্ঞান বা কলা বিভাগের কোনও বিষয়ে। তবে কর্মী নিয়োগের নানা শর্ত আছে। কোনও সংস্থা হয়তো মনে করল, কর্মীদের মধ্যে মহিলা, কিংবা দলিত শ্রেণির মানুষের যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব থাকা দরকার। তখন তারা গড়পড়তা চাহিদার বাইরে গিয়ে কর্মী খুঁজবে। আবার একই সংগঠনে নানা ধরনের কাজের প্রয়োজন, তাই নানা ধরনের দক্ষতা চাওয়া হয়। এন জি ও সেক্টরে কাজ করতে গেলে আর্থিক অনুদান জোগাড় করার দক্ষতাও প্রয়োজন। তার জন্য দরকার ভাল কমিউনিকেশন স্কিল, নিজের কাজের বিষয়টি খুব ভাল করে বোঝা, যাদের কাছে আবেদন নিয়ে যাওয়া হবে, তাদের আগ্রহ বোঝার ক্ষমতা প্রভৃতি। আবার প্রোগ্রাম অফিসারদের গ্রামের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হয়, গ্রামের স্তরে যারা কাজ করছে, সেই সব সংস্থার সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি করতে হয়। তাই তাদের মানুষের চাহিদা বোঝা, সামাজিক প্রেক্ষাপট বোঝা দরকার। পরিবর্তনের জন্য কী কী কৌশল নেওয়া চাই, কী কর্মসূচি তৈরি করা প্রয়োজন, সেটা বোঝার ক্ষমতা থাকা দরকার”।

যদি আপনি এন.জি.ওতে ক্যারিয়ার গড়তে চান তবে কিছু বিষয় আপনার সহায়ক হয়ে উঠবে, যেমন, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, রুরাল ম্যানেজমেন্ট, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস ইত্যাদি বিষয়। বাংলাদেশে প্রায় সকল সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়য়ে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টি আছে, রুরাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়টিও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্রিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান হয়ে থাকে, এছাড়া, কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে পড়ান হয়। এছাড়া, যদি কেও অনার্সের পর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিসবিষয়ে লেখাপড়া করে এন.জি.ওতে ক্যারিয়ার গড়তে চায় তবে তাঁদের জন্য বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে দারুণ সুযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিসে পড়ার সুযোগ রয়েছে। যারা মাস্টার্স পর্যায়ে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিসে লেখাপড়া শেষ করবেন তাদের খুবই ভাল সুযোগ রয়েছে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এন.জি.ওতে। অনেকে আবার নিজেই স্বউদ্যোগ হিসেবে এন.জি.ও খুলতে চান, যারা এন.জি.ও খুলতে চান তারা প্রথমে যদি একটু কষ্ট করে নিজের প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলেন, তাহলে পরের কাজগুলো খুবই সহজ হয়ে যাবে, এতে যেমনি সমাজের সেবা হবে, তেমনি আপনি নিজেও ভালোভাবে জীবনযাপন করতে সক্ষম হবেন।

তাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আনন্দময় কাজ হতে পারে এন.জি.ও, এতে যেমনি আছে, মানুষ এবং সমাজের সেবা করার মহান ব্রত, তেমনি আছে সম্মানজনক জীবনের হাতছানি, তাই, যে কেও নির্দ্বিধায় ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন এন.জি.ওকে, ঠকবেন না, এই গ্যারান্টি আমি দিচ্ছি।

 

আপলোডের তারিখঃ ২০ ডিসেম্বর, ২০১৩

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
ডায়েট কাউন্সিলিং সেন্টাররমনা, ইস্কাটন
রাশিয়ান কালচার সেন্টাররাশিয়ান কালচার সেন্টার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য
বাংলাদেশ স্কাউটসবাংলাদেশ স্কাউটসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে
সাঁতার প্রশিক্ষণN\A, N\A
থ্রি ফিঙ্গারস হ্যান্ড রাইটিংশিশুসহ সব বয়সীদের হাতের লেখা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
টিএসসি (ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র)শাহবাগ, শাহবাগ
কোয়ান্টাম মেথডরমনা, শান্তিনগর
বাংলা একাডেমীবাংলা একাডেমী
মাত্রাহাতের লেখা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মাত্রা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনঅটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন
আরও ২১ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি