পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

বিবাহ সম্পর্কে হাদিস ও আইনের দৃষ্টিভঙ্গি

আল্লা বলেন “যে সকল স্ত্রীলোক তোমাদের ভাল লাগে, তাদেরকে বিবাহ কর।” তিনি আবার বলেন, “তাঁর নিদর্শন সমূহের মধ্যে এটা একটি; তিনি তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের জন্য সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া স্থাপিত হয়। যারা চিন্তা করে, তাদের জন্য এটা একটি নিদর্শন।” বিবাহ করা ইন্দ্রিয়ের আধিক্যে ফরয, ওয়াযিব ও সুন্নত হয়ে থাকে।

স্ত্রীর মৃত্যু হলে পুরুষের মন সাধারণতঃ অন্য স্ত্রীর জন্য লালায়িত হয়। এ জন্য সকল ধর্মেই পুরুষের পুনর্বিবাহের বিধান দিয়েছে। স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীলোকেরাও অন্য স্বামী গ্রহণ করতে চয়। কিন্তু কোন কোনও ধর্মে এর বিধান নেই অল্প বয়সের বিধবা সারা জীবন বৈধব্যদশায় কাটাবে, আল্লাহর অভিপ্রায় তা নয়। এ কারণেই ইসলামে বিধবা বিবাহের বিধান দেওয়া হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে, “যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে এবং যখন তাদের মুদ্দৎ সম্পূর্ণ শেষ হয়, তারা ন্যায়তঃ যা করে, তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই” “যখন তোমরা নারীগণকে তালাক দাও এবং তাদের মুদ্দত শেষ হয়, তখন তারা পরস্পর মিলিত হয়ে স্বামী গ্রহণ করলে তাদেরকে বাধা দেবে ন।”

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তি কোন স্থানে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব দিলে, সে প্রস্তাব ত্যাগ না করা পর্যন্ত যেন তার ভাই (কোন মুসলমান) সেখানে বিবাহের প্রস্তাব না করে। (বোখারী, মুসীলম)

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সঃ) বলেছেন, যখন এমন কোন লোক তোমাকে বিবাহ করতে চায়, যার ধর্মে মতির জন্য এবং চরিত্রের জন্য তুমি সন্তুষ্ট, তাকে বিবাহ কর। যদি তা না কর, তবে দুনিয়াতে বিপদ-আপদ এবং ব্যাপক অশান্তি বিরাজ করবে। (তিরমিজী)

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। সর্বাপেক্ষা উত্তম এ স্ত্রীলোকগণ যারা উটে আরোহণ করে, (কুরাইশদের যুবতী কুমারীগণ)। তার সন্তানগণের জন্য শৈশবে অত্যন্ত ন্নেহশীলা এবং তাদের স্বামীদের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে অত্যন্ত যত্নশীলা (বোখারী ও মুসলিম)।

হযরত আবদুল্লাহ বিন মাউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেছেন, হে যুবকগণ। তোমাদের মধ্যে যার বিবাহ করার সঙ্গতি আছে, সে যেন বিবাহ করে; কেননা তা অধিকতর দৃষ্টি বন্ধনকারী এবং গুপ্তাঙ্গ রক্ষাকারী। বিবাহে যার সঙ্গতি নাই সে যেন রোযা রাখে। কেননা তা তার খাতনা স্বরূপ। এখানে সঙ্গতি বলতে দৈহিক ও আর্থিক সঙ্গতির কথা বুঝানো হয়েছে। (বোখারী মুসলিম)।

হযরত মা’কাল বিন ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, যে সকল স্ত্রীলোক স্নেহশীলা এবং সন্তানবতী, তাদেরকে বিবাহ কর (আবু দাউদ, নাসায়ী)।

হযরত আবদুর রহামান বিন সালেম (রাঃ) হলে বর্ণিত। তিন বলেন, নবী (সঃ) বলেছেন, তোমরা কুমারী কন্যা বিবাহ করবে, কেননা তাদের মুখ অধিকতর সুমিষ্ট, তাদের গর্ভ অধিকতর শক্তিশালী এবং তারা অল্পতে সন্তুষ্ট থাকে। (মিশকত)

হযরত ইবনে মাযাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেছেন, পরস্পর দুজন প্রেমিকের পক্ষে বিবাহের ন্যায় আর কিছুই নাই (ইবনে মাযাহ)।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যারা সন্তান জন্মগ্রহণ করে, সে যেন তাকে একটি উত্তম নাম দেয় এবং আদব শিক্ষা দেয়; যখন সে বয়স্ক হয়, তখন যেন তাকে সে বিবাহ করায়। যদি বয়স্ক হওয়া সত্বেও বিবাহ না দেয়, তা হলে সে পাপ করলে তা তার পিতার উপর বর্তে। (ইবনে, মাযাহ, বাইহাকী)

বিবাহ ইসলাম ধর্মের পবিত্র উৎস গুলোথেকে শরীয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত বিধায় এই আইনকে মুসলিম আইন বলা হয়। ইসলাম ধর্ম যেহেতু একটি সার্বিক জীবন বিধান, বিবাহের ব্যাপারেও এর কোন ব্যতিক্রম নেই। এখানে বিবাহের আইনগত গুরুত্ব, সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা বিশেষ ভাবে পরিলক্ষিত হয়। একটি ছেলে ও মেয়ের বা পুরুষ ও নারীর সহবাস, জীবন যাপন ও সংসার ধর্ম পালনের লক্ষে, ধর্মীয় ও সামাজিক সুরক্ষা দিতেই বিবাহ প্রথার জন্ম। মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ে হলো দেওয়ানী চুক্তি [(Contractual Agreement (of Civil Nature)]।

ইসলাম ধর্মের অন্যকোন উৎস অথবা বাংলাদেশের প্রচলিত অন্য যে কোন আইনে যা কিছুই বলা হোক না কেন, মুসলিম পারিবারিক আইন এর অধীনে একটি আইন সম্মত বিবাহ সম্পাদনের জন্য ৫ (পাঁচ) টি শর্ত অবশ্যই পালন করতে হবে। অর্থাৎ, একটি বৈধ বিবাহ সম্পন্ন হতে হলে নিম্ন বর্ণিত বিষয় গুলো উপস্থিত থাকতে হবে:

১। পক্ষ গণের প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে (ছেলেদের ২১ এবং মেয়েদের ১৮), অর্থাৎ বিয়েটি বাল্য বিবাহ হওয়া যাবে না।;

২। পক্ষ গণের বিয়েতে সম্মতি থাকতে হবে (ইজাব ও কবুল); বিশেষভাবে নারীদের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক বিয়েতে বাধ্য করা যাবেনা;

৩। প্রাপ্ত বয়স্ক/বয়স্কা  ২ (দুই) জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়েটি সম্পন্ন হতে হবে;

৪। দেনমোহর বা মোহরানা  নির্ধারণ;

৫। বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করা।

যদিও বাংলাদেশের পারিবারিক আইনের আওতায় মুসলিমদের বেশীরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক বিধান গুলো মুসলিম পারিবারিক আইন, অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (Muslim Family Laws Ordinance, 1961) অনুসারে পরিচালিত হয়ে থাকে‌। কিন্তু বিবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মুসলিম বিবাহ তালাক (রেজিষ্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪ [Muslim marriages and Divorces (Registration) Act, 1974]এর বিধান অনুযায়ী হয়ে থাকে।

বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯ এর অধীনে বরের বয়স অবশ্যই ২১ বৎসর এবং কনের বয়স ১৮ বৎসর হতে হবে। সমাজের যে কোন চুক্তি সম্পাদনের জন্য যেমন দুই পক্ষ কে প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হয়, তেমনি বিয়ের চুক্তির ক্ষেত্রেও পক্ষদ্বয়কে প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হয়, অন্যথায় সাধারণ চুক্তির মতো এই চুক্তিও আইন সম্মত হবে না, বাতিল যোগ্য হবে।

পক্ষগনের সম্মতির ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, একটি পক্ষ প্রস্তাব করার পর অন্য পক্ষ কর্তৃক উহা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করতে হবে। এবং বৈধ বিবাহ সম্পাদনের ক্ষেত্রে উহার গুরুত্ব অপরিসীম। কোন সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্ত বয়স্ক সম্পন্ন মুসলমানের বিয়ে যদি তার সম্মতি ব্যতিরেকে সম্পন্ন হয় তাহলে উক্ত বিবাহ চুক্তিটি বৈধ বিবাহ বলে গণ্য হবে না। একটি বৈধ বিবাহ সম্পাদনের জন্য বর কনেকে প্রস্তাব দেবে যাকে ইজাব বলা হয়, এবং কনে উক্ত প্রস্তাবটিতে নিজে সম্মতি প্রদান করিয়া কবুল বলিয়া গ্রহণ করিবে।

একটি বৈধ বিবাহ সম্পাদনের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই সাক্ষী সম্পর্কে হানাফি মত অনুসারে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলার কথা বলা হয়েছে – একজন পুরুষকে একজন পূর্ণ সাক্ষ্য এবং সাক্ষী হিসেবে একজন নারীকে একজন পুরুষের অর্ধেক ধরা হয়েছে, অর্থাৎ একজন নারী সাক্ষীর সাক্ষ্য গুণ একজন পুরুষ সাক্ষীর সাক্ষ্য গুণের অর্ধেক। কিন্তু বাংলাদেশের (সাক্ষ্য আইন) অনুযায়ী নারী ও পুরুষ সমান গুরুত্ব পেয়ে থাকেন। সুতরাং, বিয়ের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত দুই জনের দুই জন পুরুষ, দুই জন নারী অথবা একজন পুরুষ আর একজন নারী হতে পারে। বিয়ের প্রস্তাবটি সাক্ষীদের সামনে এমন ভাষায় প্রস্তাবিত হতে হবে যাতে করে উপস্থিত সবাই সেটা বুঝতে পারে যে এটা একটা বিবাহ চুক্তি সম্পাদন হচ্ছে।

বিবাহের সাক্ষী খুব গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়। আমাদের দেশে মামলা মোকদ্দমায় এমন নজির আছে যে,  মা-বাবার বিয়ের সাক্ষী না থাকায় সন্তান বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারেনি। এক্ষেত্রে রেজিষ্ট্রেশন ও সাক্ষী হিসেবে ধরা হতে পারে। তাই বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন ও সাক্ষী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আইনতঃ বিয়ের কোন অস্তিত্বই প্রতিষ্ঠা পায় না।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইত; তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) যা বলতেনবিস্তারিত জানুন যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইত; তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) কি বলতেন
না দেখেই বিয়ে: অতঃপর বাসরঘরে যা দেখলেন যুবক!বিস্তারিত জানুন না দেখেই বিয়ে: অতঃপর বাসরঘরে যা দেখলেন যুবক!
আল্লাহ তা’য়ালা মদকে তিনটি পর্যায়ে হারাম ঘোষনা করেনবিস্তারিত জেনে নিন আল্লাহ তা’য়ালা মদকে তিনটি পর্যায়ে হারাম ঘোষনা করেন
জাকাতের অর্থ দেয়া যাবে যাদেরজাকাতের অর্থ দেয়া যাবে যাদের সম্পর্কে
সকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়তেন প্রিয়নবিসকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়তেন প্রিয়নবি সম্পর্কে
রমজানের অন্যতম শিক্ষা ‘জামাআতে নামাজ আদায়’রমজানের অন্যতম শিক্ষা ‘জামাআতে নামাজ আদায়’ সম্পর্কে
জুমআর নামাজ তরক করা মারাত্মক গোনাহজুমআর নামাজ তরক করা মারাত্মক গোনাহ সম্পর্কে
রমজানের পর শাওয়ালের ৬ রোজার প্রয়োজনীয়তারমজানের পর শাওয়ালের ৬ রোজার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে
লাইলাতুল কদর : যেভাবে কাটাবেন আজকের রাতলাইলাতুল কদর : যেভাবে কাটাবেন আজকের রাত সম্পর্কে
রমজানের শেষ দিনগুলোর বিশেষ আমলরমজানের শেষ দিনগুলোর বিশেষ আমল সম্পর্কে
আরও ৬৪৯ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি