পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

হাদিসের পরিচয়

নবী করীম (সাঃ) জীবনে যা নিজে বলেছেন, করেছেন অথবা অপরের কোন কথা বা কাজের প্রতি সম্মতিজ্ঞাপন করেছেন তাকে হাদীস বলে। কারো মতে সাহাবা ও তাবেয়ীগণের কথা, কাজ ও সম্মতিকে ‘আসার’ বলে।

হাদীসের উৎস: হযরত মোহাম্মদ (সঃ) আল্লার প্রেরিত নবী ও রাসূল এবং মানুষও। কাজেই তাঁর নবী-জীবনের কার্যাবলীকে দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়- এক. যা তিনি নবী ও রাসূল পদের দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য করেছেন এবং দুই. যা তিনি মানুষ হিসেবে করেছেন। প্রথম শ্রেণীর কার্যাবলী আল্লার নিয়ন্ত্রণাধীনে এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর কার্যবলী অবশ্য একইরূপ নয়। প্রথম শ্রেণীর হাদীসের উৎস অহী। দ্বিতীয় শ্রেণীর হাদীসের মধ্যে কোনটির উৎস অহী এবং কোনটির উৎস স্বয়ং রাসূলূল্লাহ (সাঃ) এর ইজতিহাদ। কিন্তু তা ইজতিহাদও অহীর সপর্যায়। কেননা, আল্লা তাঁকে শরীয়ত সর্ম্পকে কোন ভুল সিদ্ধান্তের উপর অবস্থান করা হতে রক্ষা করেছেন।

হাদীসের প্রকারভেদ: হাদীস প্রথমতঃ তিন প্রকার।

এক কওলী: কথা জাতীয় হাদীসকে কওলী, দুই ফেলী: কার্য বিবরণ সংম্বলিত হাদীসকে ফেলী এবং তিন: তাকরিরী: সম্মতিসূচক হাদীস বলে। মুহাদ্দিসগণ এ তিন প্রকার হাদীসকে নিম্নরূপে শ্রেণী বন্যাস করেছেন।

সনদ হিসেবেও হাদীস তিন শ্রেণীতে বিভক্ত। হাদীসের সনদ বা সূত্র পরস্পরা যদি রাসূল (সাঃ) পর্যন্ত পৌঁছে থাকে; যেমন সাহাবী বলেন রাসূল এরূপ বলেছেন বা করেছেন, তাহলে সে হাদীসকে ‘মারফু’ হাদীস বলা হয়। যদি সাহাবীর পরবর্তী লোকেরা (তাবেয়ীগণ) বলেন যে, অমুক সাহাবী এরূপ করেছেন বা একথা বলেছেন, তাহলে এ বিবরণের নাম ‘মাওকুফ’ হাদীস। যেমন তায়েয়ী বলেন, উমর এরূপ বেলেছেন, আবু বকর এটা করেছেন ইত্যাদি। যে হাদীসের শেষ সীমা কোন তাবেয়ী পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে, অর্থাৎ যেখানে কোন তাবেয়ীর কথা বা কাজের বর্ণনা করা হয়ে তাকে ‘মাকতু’ হাদীস বলে।

যারা নবী করীম (সঃ) এর সাহচর্য লাভ করেছে, তাদের সমষ্টিগত নাম ‘সাহাবা। এ সমষ্টির যে কোন একজনকে পৃথকভাবে সাহাবী বলা যেতে পারে। অধিকাংশের অভিমত যে, যে কোন মুসলমান, মুসলমান থাকা অবস্থায় নবী করীম (সাঃ) সাহচর্য পেয়ে ছিলেন এবং মুসলমান থাকা অবস্থায় মারা যান, সাহাবী বলতে তঁকে বুঝাবে।

যে ব্যক্তি কোন সাহাবার সাক্ষাত লাভ করেছেন, তিনি তাবেয়ী। অতএব যে মুসলমান, ইহুদী, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক এবং অগ্নি-পূজক একজন সাহাবাকে দেখেছেন, সেও তাবেয়ী।

সাহাবাদের মোট সংখ্যা প্রায় ১ লাখের উপরে। এদের মধ্যে সর্বশেষে ইন্তেকাল করেছেন আবু তোয়েল অমের ইবনে ওয়াসেলা (রাঃ)। তিনি হিজরী ১০২ সনে ইন্তেকাল করেন।

সূত্র পরম্পরায় যে সকল রাবীন নাম আছে তাঁদের চরিত্রের বৈশিষ্ট হিসেবে হাদীস আবার তিনি প্রকার এক. সহী, দুই. হাসান ও তিন. জঈফ।

সহীহ হাদীস: সহীহ্ হাদীসের রাবীদের নিম্নলিখিথ গুণ থাকতে হবে: এক. স্বভাবগতভাবে, সত্যবাদিতা, ধর্মভীরুতা এবং ন্যায়-নিষ্ঠা থাকতে হবে। দুই. কাপুরুষতা, নীচ প্রকৃতি, সুরুচিহীনতা এবং এ জাতীয় সবল প্রকার ঘৃণিত কাজ ও ভাব হতে মুক্ত থাকতে হবে। তিন. অটুট স্মরণশক্তি ও আবৃত্তি করার অতুলনীয় ক্ষমতা। বিবরণ শ্রবণের সময় হতে তা বিবৃত করার সময় পর্যন্ত নিজের পুস্তকে এমন সাবানতা ও যোগ্যতার সাথে তিনি সেগুলোকে লিখে রেখেছেন যে, তাতে কোন প্রকার ভুল-ভ্রান্তির সম্ভবনা নেই। চার. হাদীসটির রাবী পরস্পরা হতে একজন রাবীও পরিত্যক্ত হয়নি। পাঁচ. যে রেওয়ায়েতহটি ‘মোআল্লাল’ হতে পারবে না। ‘মোআল্লাল’ সে হাদীসকে বলা হয়, যাতে সাধারণের চোখে দোষ ধরা পড়ে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞ ও চিন্তাশীল ব্যক্তিগণ তাতে মারাত্মক দোষ-ত্রুটি দেখতে পান। যেমন, কোন হাদীসের বর্ণিত বিষয়টি আসলে সাহাবীর কথা, কিন্তু পরবর্তী রাবী ভুলে বা অন্য কারণে তাকে রাসুল (সঃ) এর উক্তি বলে বর্ণনা করেছেন। ছয়. এ হাদীস ‘শাজু’ হবে না; অর্থাৎআলোচ্য হাদীসের রাবী নিজের চাইতে বিশ্বস্ততর রাবীর বর্ণিত হাদিসের বিপরীতে কোন বিষয়ের বর্ণনা করবেন না। এই ছয়টি কঠোর শর্ত যে হাদীসে পাওয়া যাবে, তাকে সহী বলা হবে।

হাসন হাদীস: যদি কোন হাদীসে দ্বিতীয় শ্রেণীর সহীহ হাদীসের ন্যায় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সে হাদীসকে ‘হাসান’ হাদীস বলা হয়।

জঈফ হাদীস: সহীহ্ ও হাসান হাদীসের বর্ণিত এক বা এখাধিক শর্তের অভাব হলে সে হাদীসকে জঈফ (দুর্বল) হাদীস বলা হয়।

হাদীসের সংখ্যা: হাদীসের মূল কিতাব সমুহের মধ্যে ইমাম অহমদ ইবনে হাম্বল এর মুসনাদ একটি বৃহৎ কিতাব। এতে ৭০০ সাহবীদের বর্ণিত ‘তাকরার; (এক কথাকে পুনঃ পুনঃ বলাকে ‘তকরার বলে) সহ মোট ৪০,০০০ এবং তাকরার বাদে ৩০,০০০ হাদীস রয়েছে। শায়খ আলী মোত্তকী জৌনপুরীর ‘মুনতাখাবে কানজুল উমমালে’ ৩০,০০০ হাদসি এবং ‘কানজুলওসমালে’ তাকরার বাদে ৩২,০০০ হাদীস রয়েছে অথচ এ কিতাব বহু ‍মূল কিতাবের সমষ্টি। একমাত্র হাসান ইবনে আহমদ সমরখন্দীর ‘বাহরুল আসানীদ’ কিতাবেই ১০০,০০০ হাদীস আছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীর সহীহ হাদীসের সংখ্যা কারো কারো মতে দশ হাজারেরও কম। ‘সিয়াহ সিত্তায়’ মাত্র ৫,৭৫০টি হাদীস রয়েছে। এর মধ্যে বড় বড় ঈমামগণের লাখ লাখ হাদীস জানা ছিল বলে যে কথা প্রচলিত আছে,ত তার অর্থ, অধিকাংশ হাদীসের বিভিন্ন সনদ রয়েছে। শুধু নিয়ত সম্পর্কীয় হাদীসটিরই ৭০০ সনদ রয়েছে। মোহাদ্দিসগণ যে হাদীসের যতটি সনদা রয়েছে তাকে ততটি হাদীস বলে গণ্য করেন।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইত; তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) যা বলতেনবিস্তারিত জানুন যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইত; তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) কি বলতেন
না দেখেই বিয়ে: অতঃপর বাসরঘরে যা দেখলেন যুবক!বিস্তারিত জানুন না দেখেই বিয়ে: অতঃপর বাসরঘরে যা দেখলেন যুবক!
আল্লাহ তা’য়ালা মদকে তিনটি পর্যায়ে হারাম ঘোষনা করেনবিস্তারিত জেনে নিন আল্লাহ তা’য়ালা মদকে তিনটি পর্যায়ে হারাম ঘোষনা করেন
জাকাতের অর্থ দেয়া যাবে যাদেরজাকাতের অর্থ দেয়া যাবে যাদের সম্পর্কে
সকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়তেন প্রিয়নবিসকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়তেন প্রিয়নবি সম্পর্কে
রমজানের অন্যতম শিক্ষা ‘জামাআতে নামাজ আদায়’রমজানের অন্যতম শিক্ষা ‘জামাআতে নামাজ আদায়’ সম্পর্কে
জুমআর নামাজ তরক করা মারাত্মক গোনাহজুমআর নামাজ তরক করা মারাত্মক গোনাহ সম্পর্কে
রমজানের পর শাওয়ালের ৬ রোজার প্রয়োজনীয়তারমজানের পর শাওয়ালের ৬ রোজার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে
লাইলাতুল কদর : যেভাবে কাটাবেন আজকের রাতলাইলাতুল কদর : যেভাবে কাটাবেন আজকের রাত সম্পর্কে
রমজানের শেষ দিনগুলোর বিশেষ আমলরমজানের শেষ দিনগুলোর বিশেষ আমল সম্পর্কে
আরও ৬৪৯ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি