পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

ইসলামে ‘পর্দা’

পর্দা সম্বন্ধে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, “হে নবী! তোমার স্ত্রীগণ, তোমার কন্যাগণ এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলে দাও যে, তারা যেন তাদের বুকের উপরিভাগ বস্ত্র দ্বারা আবৃত করে রাখে।” আবার অন্যত্র বলেন, “মুমিনদেরকে বলে দাও, যেন তারা স্বীয় দৃষ্টি নিম্নদিকে রাখে এবং লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করে।” হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের ডান হস্ত যাদেরকে অধিকার করেছে এবং যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি তাদেরকে তোমাদের কাছে যেতে তিনটি সময়ে অনুমতি নিতে বল, ফযরের নামাযের পূর্বে গ্রীষ্মকালের মধ্যাহ্নে যখন তেমরা বস্ত্র খুলে রাখ এবং এশার নামাযের পরে। এ তিনিটি সময় তোমাদের জন্য গুপ্ত সময়, অন্য সময় তোমরা তোমারে পরস্পরের কাছে যেতে পাপ নেই।”

হযরত ওকবাহ বিন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেছেন, স্ত্রীলোকের কাছে আগমন ত্যাগ করবে। একজন প্রশ্ন করল, স্বামীর আত্মীয়গণ সম্বন্ধে আপনার মত কি? তিনি বললেন, স্বামীর আত্মীয়গণ মৃত্যু সদৃশ (বোখারী, মুসলিম)

হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, আগন্তুক স্ত্রীলোকদের প্রতি দৃষ্টিপাত সম্বন্ধে নবী (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দিলেন। (বোখারী, তিরমিজী)

হযরত জাবের ও আবদুল্লা হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, স্বামী অনুপস্থিত থাকলে ঘরে প্রবেশ কর না, কেননা শয়তান রক্ত চলাচলের ন্যায় তোমাদের মধ্যে চলাফেরা করে। জিজ্ঞেস করলাম, আপনার মধ্যেও? তিনি বললেন, আমার মধ্যেও চলাফেরা করে। কিন্তু আল্লা আমাকে তার উপর জয়ী করেছেন এবং শয়তান আমার বাধ্য হয়েছে। (মুসলিম, তিরমিজী)

হযরত উম্মে সালমাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং ময়মুনা নবী (সাঃ) এর কাছে থাকাকালীন উম্মে কাকতুমের ছেলে এসে তাঁর নিকটে গেল। তিন আমাকে বললেন, এর কাছে পর্দা কর। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সে কি অন্ধ নয়? তিনি বললেন, তোমরা কি অন্ধ? তোমরা কি দেখ না।

হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) ফাতিমাকে যে দাসটি দান করেছিলেন, একে নিয়ে তিনি তার কাছে গেলেন। ফতিমার দেহে একখন্ড বস্ত্র ছিল এবং তদ্বারা তার মাথা ঢাকলে তার পদদ্বয় উন্মুক্ত থাকত এবং পদদ্বয় আবৃত করলে মাথা অনাবৃত থাকত। নবী (সাঃ) এ টানাটানি দেখে বললেন, এতে তোমার কোন দো্ষ নেই। আমি তোমার পিতা এবং সে তোমার দাস। (আবু দাউদ)

শরীরের যে অংশ আবৃত রাখা ফরয করা হয়েছে শরীআতের পরিভাষায় তাকে সতর বলে। নারীর জন্য সতরের সীমারেখা: নারীর জন্য সতরের সীমারেখা বড় করা হয়েছে। তাদের জন্য আদেশ করা হয়েছে, নিজেদের মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় ব্যতীত সমস্ত শরীর আবৃত রাখতে হবে। পিতা, ভ্রাতা ও সমস্ত নিকট আত্মীয়গণ এ আদেশের শামিল এবং স্বামী ব্যতীত কোন পুরুষের বেলা এর ব্যতিক্রম হতে পারে না।

নবী (সাঃ) বলেছেন যে নারী আল্লা ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তাঁর জন্য এর বেশী হাত খুলে রাখা জায়েজ নয়।’ একথা বলে তিনি তাঁর হারে কব্জীর মধ্যস্থলে হাত রাখলেন। -ইবেনে জরীর

নবী (সাঃ) এর শ্যালিকা হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ) একবার মিহি কাপড় পড়ে তাঁর সম্মুখে আসেন। কাপড়ের ভিতর দিয়ে তাঁর শরীরের অংগ-প্রত্যংগ দেখা যাচ্ছিল। নবী (সাঃ) তৎক্ষণাৎ দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, ‘হে আসমা! সাবালিকা হওয়ার পর এইটুকু ব্যতীত শরীরের কোন অংশ অপরকে দেখান কোন স্ত্রীলোরে পক্ষে জায়েয হবে না।’-এই বলে নবী (সাঃ) তাঁর মুখমন্ডল ও হাতের কব্জীর দিকে ইংগিত করলেন।

হাফসা বিনতে আবদুর রহমান একদা সূক্ষ্ম দোপাট্টা পরিধান করে হযরত অয়েশা (রাঃ) এর গৃহে হাযির হলেন। তখন তিন তা ছিঁড়ে ফেলে একটা মোটা চাদর দিয়ে তাঁকে ঢেকে দিলেন।–ইমাম মালিক: মুয়াত্তা

নবী (সাঃ) বলেছেন, আল্লর অভিশাপ ঐ সকল নারীদের উপর, যারা কাপর পরিধান করেও উলংগ থাকে। হযরত ওমর (রাঃ) বলেছেন, নারীদিগকে এমন অাঁট-সাঁট কাপড় পরিধান করতে দিও না যাতে শরীর গঠন পরিস্ফুট হয়ে পড়ে।

নারীর ব্যাপারে যেমন পর্দার তাগিদ আছে পুরুষের প্রতিও পর্দার সীমারেখা আরোপ করা হয়েছে। নারী পুরুষের শরীর ঢাকার সীমারেখাও পৃথক পৃথক ভাবে নির্ধারন করা হয়েছে। পুরুষের জন্য নাভী ও হাঁটুর মধ্যবর্তী অংশকে সতর বলা হয়েছে। আদেশ করা হয়েছে যে, তা যেন অপরের সম্মুখে অনাবৃত করা না হয় এবং অপরেও যেন তা না দেখে।

আবু ইয়ুব আনসারী হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, ‘হাঁটুর উপরে ও নাভীর নীচে যা আছে তা ঢাকার অংশ।’-দারু কুতনী

হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) এরশাদ করেন, নিজের উরু অন্যকে দেখাবে না এবং কোন জীবিত অথবা মৃত ব্যক্তির উরুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করো না। তফসীরে কবীর।

এটা সার্বজনীন নির্দেশ। একমাত্র স্ত্রী ব্যতীত কেউ এর ব্যতিক্রম নয়। তোমাদের স্ত্রীর ও ক্রীতদাসী ব্যতীত অন্যান্যের নিকট হতে তোমাদের সতর রক্ষা কর।–আহকামূল কুরআন

ইসলামে এ ব্যাপারে মানুষকে সভ্যতার প্রথম পাঠ শিক্ষা দিয়েছে। “হে মানব সন্তান! আল্লাহ তোমাদের শরীর আবৃত করার জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছে এবং এটা তোমাদের শোভাবর্ধক।–সূরা আরাফ: ২৬। এই আয়াতের মর্মানুযায়ী শরীর আবৃত করা প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্য ফরয করা হয়েছে।

নবী (সাঃ) কড়া নির্দেশ দান করেছেন যেন কেউ করো সম্মুখে উলংগ না হয়। এ ব্যাপারে এতটাই কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে, যে আপন ভাইয়ের সতরের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সে অভিশপ্ত। জাসসাস: আহকামুল কুরআন।

কোন পুরুষ কোন পুরুষকে এবং কোন নারী কোন নারীকে যে উলংগ অবস্থায় না দেখে। (মুসলিম)

আরো বলা হয়েছে আল্লাহর কসম, আমার আকাশ হতে নিক্ষিপ্ত হওয়া এবং দ্বিখন্ডি হওয়া অধিকতর শ্রেয় এমন অবস্থা হতে যে, আমি করো গুপ্তাংগ দিখি অথবা কেউ আমার গুপ্তাংগ দেখে।–মাবসুত

কুরআনে পর্দা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে: [হে নবী!] মু’মিন পুরুষগণকে বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং যৌন পবিত্রতা রক্ষা করে চলে। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা। নিশ্চয়ই তাঁরা যা কিছুই করে, আল্লা তৎসম্পর্কে পরিজ্ঞাত। এবং মু’মিন নারিগণকে বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনমিত রাখে এবং নিজেদের যৌন পবিত্রতা রক্ষা করে চলে এবং স্বীয় সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, শুধু ঐ সৌন্দর্য ব্যাতীত যা স্বতই প্রকাশিত হয়ে পড়ে। এবং যেন তারা স্বীয় বক্ষের উপরে উড়িবার চাদর টেনে দেয় এবং সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে [অন্য কারো নিকট] এই সকল লোক ব্যতীত, যেমন স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, তৎপুত্র, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভাগিনেয়, আপন স্ত্রীলোকগণ, স্বীয় দাস, নারীর প্রতি স্পৃহাহীন সেবক এবং ঐ সকল বালক, যারা নারীর গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে অবহিত হয় নাই। [উপরন্তু তাদেরকে আদেশ করুন যে] তারা যেন পথ চলার সময় এমন পদধ্বনি না করে, যাতে তাদের অপ্রকাশিত সৌন্দর্য পদধ্বনিতে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। সূরা নূর: ৩০-৩১

মানব সৃষ্টির ভিত্তি হিসেবে রয়েছে পাশবিক প্রকৃতি। এই ভিত্তির উপরই মনুষ্যত্বের অট্টালিকা গড়ে তোলা হয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত ও জাতিগত অস্তিত্ব অবশিষ্ট রাখার জন্য সে সব বিষয়ের প্রয়োজন হয়, তার মধ্যে প্রত্যেকের আকাঙ্খা এবং প্রত্যেকের তা পূরণ করার যোগ্যতা আল্লা তার পাশবিক বিভাগে রেখে দিয়েছেন। এখন এই সকল আকাঙ্খার কোন একটি পূর্ণ হতে না দেয়া কিংবা ঐ সকল যোগ্যতার কোন একটি নষ্ট করে দেয়া মোটেই আল্লার ইচ্ছা না। কারণ এই সকল অবস্থাই প্রয়োজনীয় এবং পাশবিকতা ছাড়া মানুষ্য জাতি বেঁচে থাকবে ন। অবশ্য প্রকৃতি চায় মানুষ তার আকাঙ্খা পূরণে এবং এসকল যোগ্যতার ব্যবহারে যেন নিছক পাশকি পদ্ধতি অবলম্ব না করে, বরং তার মাবিক বিভাগও যেন জাগ্রত থাকে। বলা হয়েছে যে আল্লাহর বিধান লংঘন করে সে নিজেরই উপর অত্যাচার করে। সূরা তালাক:১। লক্ষ্য করতে হবে দাম্পত্য ব্যাপারে কুরআন মানবীয় প্রকৃতির কোন কোন বৈশিষ্ট্য ও কোন কোন কামনা-বাসনার দিকে অংগলী নির্দেশ করে। তিনি [আল্লা] তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই জোড়া বানায়ে দিয়েছেন যাতে তোমরা শান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও করুণা সঞ্চার করে দিয়েছে। -সূরা রূম:২১। তারা তোমাদের ভূষণস্বরূপ এবং তোমরা তাদের ভষণস্বরূপ। -সুরা বাকারা: ১৮৭। কুরআনে যে মানুষ ও পশু উভয়ের জোড়া সৃষ্টি করার উল্লেখ করেছে সেখানে জোড়া সৃষ্টির উদ্দেশ শুধু বংশ রক্ষার কথা বলা হয়েছে। মানুষের জন্য জোড়া সৃষ্টির একটা উচ্চতর উদ্দেশ্য আছে-তা নিছক যৌনসুলভ নয়, বরং সে সম্পর্ক প্রেম ও ভালবাসা, একে অপরের সুখ-দুখের অংশীদার।। তাদের মধ্যে এমন সাহচর্য ও সংযোগ সংস্পর্শ হবে-যেন তা মনে হয় শরীর ও পরিধেয় বস্ত্রে মতো। তাই পর্দার উপর এত জোর দেয়া হয়েছে।

নরীর পর্দার ব্যাপারে কেউ যদি বিশেষ করে নারীবাদীরা বলে, পর্দার নামে নারীকে বন্দি করা হয়। এটা সবচেয়ে বড় ভুল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা হবে। ইসলামে নারীকে বন্দি করার প্রয়াস কোথায়ও নেই। নারীর সম্মান কে রক্ষার করার নাম কখনই বন্দিত্ব নয়। বর্তমান দুনিয়ায় নারীকে পণ্য বানিয়ে পুরুষের সামনে উপস্থাপন করে যারা ফয়দা লুঠছে তারাই একমাত্র এমন উসকানিমুলক কথা বলতে পারে। তাই একথা বহু যুক্তি-তর্ক দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা যায় পর্দা করে কখনও নারীকে বন্দি বানানো হয় না। বরং পর্দা করে নারীকে সম্মানিত ও সংরক্ষণ করা হয়। এ ব্যাপারে ব্যাপক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে হলে এই ছোট্ট পরিসরে কোনভাবে সম্ভব নয়। আগামীতে এ ব্যাপারে আরো ব্যাপক আলোচনান আশা রেখে এ পর্যন্তই শেষ করছি।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইত; তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) যা বলতেনবিস্তারিত জানুন যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইত; তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) কি বলতেন
না দেখেই বিয়ে: অতঃপর বাসরঘরে যা দেখলেন যুবক!বিস্তারিত জানুন না দেখেই বিয়ে: অতঃপর বাসরঘরে যা দেখলেন যুবক!
আল্লাহ তা’য়ালা মদকে তিনটি পর্যায়ে হারাম ঘোষনা করেনবিস্তারিত জেনে নিন আল্লাহ তা’য়ালা মদকে তিনটি পর্যায়ে হারাম ঘোষনা করেন
জাকাতের অর্থ দেয়া যাবে যাদেরজাকাতের অর্থ দেয়া যাবে যাদের সম্পর্কে
সকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়তেন প্রিয়নবিসকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়তেন প্রিয়নবি সম্পর্কে
রমজানের অন্যতম শিক্ষা ‘জামাআতে নামাজ আদায়’রমজানের অন্যতম শিক্ষা ‘জামাআতে নামাজ আদায়’ সম্পর্কে
জুমআর নামাজ তরক করা মারাত্মক গোনাহজুমআর নামাজ তরক করা মারাত্মক গোনাহ সম্পর্কে
রমজানের পর শাওয়ালের ৬ রোজার প্রয়োজনীয়তারমজানের পর শাওয়ালের ৬ রোজার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে
লাইলাতুল কদর : যেভাবে কাটাবেন আজকের রাতলাইলাতুল কদর : যেভাবে কাটাবেন আজকের রাত সম্পর্কে
রমজানের শেষ দিনগুলোর বিশেষ আমলরমজানের শেষ দিনগুলোর বিশেষ আমল সম্পর্কে
আরও ৬৪৯ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি