পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

বন্ধুত্ব ও ভালবাসা

নবী (সাঃ) বলেছেন, “মানবতা ও বন্ধুত্ত ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত।” অসচ্চরিত্র, বেশ্যাসক্ত, মদ্যপায়ী, মূর্খ, ব্যভিচারী, সুদ ও ঘুষখোরদের সঙ্গ পরিত্যাগ করাই সঙ্গত। কোরআন বলে, “আমার স্মরণ হতে যে ফিরে, তার কাছ হতে ফিরে যাও।” ধার্মিক লোকের সাথে বন্ধুত্ব করাই উত্তম।
হযরত আবুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, “সর্বোত্তম কার্য আল্লাহর জন্য ভালবাসা এবং আল্লা্র জন্য ঘৃণা করা।(আবু দাউদ)
হযরত আব্দুল্লা বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, “যখন তোমারা তিন জন একত্রে থাক, লাকজনের সাথে তোমরা মিশে না যাওয়া পর্যন্ত তৃতীয় জনকে ছেড়ে দু’জনে গোপন পরামর্শ করবে না, কেননা এতে তার (তৃতীয় জনের) মনে দুঃখ হতে পারে।” (বোখারী)
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, “যে তোমাকে প্রতিবেশীরূপে গ্রহণ করে, তার সাথে সদ্ভাব রক্ষা কর, তাহলে তুমি প্রকৃত মুসলমান হবে। যে তোমার সাথে থাকে, তার সাথে উত্তম ব্যবহার করো, তবেই তুমি প্রকৃত মুমিন হবে।” (তিরমিজী, ইবনে মাযহ)
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী (সাঃ) বলেছেন, মিতব্যয় জীবিকার অর্ধেক; লোকজনকে ভালবাসা জ্ঞানের অর্ধেক এবং উত্তম প্রশ্ন বিদ্যার অর্ধেক। (বাইহাকী)

‘সৎ সঙ্গ স্বর্গে বাস, অসৎ সঙ্গ সর্বোনাশ’ এই বাক্যটি উল্লেখিত হাদদীসগুলিতে স্পষ্ট হয়েছে। সৃষ্টির নিয়ম অনুযায়ী মানুষ একা থাকতে পারে না। সেজন্য আমরা সামাজিকভাবে, গোষ্ঠিগতভাবে, দলবদ্ধ হয়ে থাকি। এর মধ্যে আমাদের যাদের সাথে মতের ও পথের মিল হয় তাদের সাথেই বন্ধুত্ব হয়। এটা অনেকটা্ প্রাকিৃতকও বটে। আমরা বন্ধুর সাথে মনের অনেক দুঃখ বেদনা শেয়ার করতে পারি। আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলছে, কাউন্সিলিং করলে (শেয়ার করলে) মনের ভার অনেক হালাকা হয়। প্রকৃত যে বন্ধু সে বন্ধুর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ায়-তা বুদ্ধি-বিবেচনা, শ্রম বা অর্থ দিয়েই হোক বা যা কিছু দিয়েই হোক ।

বর্ণিত আছে, নবী (সাঃ) আবু বকর সিদ্দীকীকে বলেছিলেন, “আমাকে দেশ ত্যাগ (হিজরত) করে মদিনায় যেতে হতে পারে। আমি চাই তুমি আমার সঙ্গে যাবে। তুমি মানসিকভাবে প্রস্তুত থেকো।” যে সময় নবী (সাঃ) হিজরত করেছিলেন, সে সময় তাঁর জীবনে এমন অবস্থা হয়েছিল, তাঁকে [নবী (সাঃ)] ধরতে পারলে হত্যা পর্যন্ত করা হতো। আর যে তার সঙ্গে থাকত; তার ও জীবনের ঝুঁকি থাকত-তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যাই হোক, নবী (সাঃ) যে রাতে মদিনায় হিজরত করেছিলেন, সে রাতে তিনি যখন হযরত আবু বকর (রাঃ) এর বাড়ির দরজায় গিয়ে ডাক দিয়েছেলেন (একবার মাত্র), সাথে সাথে আবু বকর (রাঃ) ঘর থেকে বেড় হয়ে এসেছিলেন। তখন নবী (সাঃ) বলেছিলেন, ‘তুমি এতো তারাতারি প্রস্তুত হয়ে বাড়ি থেকে বের হলে কি করে। কারণ ঘুম থেকে উঠে দুর যাত্রার প্রস্তুতি নিতে কিছুটা হলেও তো সময় দরকার হয়।’ তখন আবু বকর (রাঃ) বলেছিলেন, ‘হুজুর আপনি যেদিন আমাকে হিজরতের কথা বলেছিলেন, সেদিন থেকেই আমি আর রাতে ঘুমাইনি। সাড়া রাত যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে জেগে থাকতাম-যাতে আপনাকে আমার বাড়ির দরজায় এসে অপেক্ষা করতে না হয়।’ আরো বর্ণিত আছে খাদিজা (রাঃ) মৃত্যু বরণ করলে, নবী (সাঃ) এর মন বিমর্ষ থাকত। তখন আয়শা সিদ্দীর বয়স মাত্র নয় বছর। নবী (সাঃ) এর মন ভাল করতে আবু বকর সিদ্দীকী (রাঃ) আয়শা সিদ্দীকী (রাঃ) আর নবী (সাঃ) এর বয়সের বড় ব্যাবধান থাকলেও বিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি  বলেছিলেন, ‘নবী (সাঃ) এর মন ভাল রাখতে আমার যদি আরো মেয়ে থাকত; তবে আমি নবী (সাঃ) এর খেদমতে তা পেশ করতাম।’ একজনের প্রতি একজনের কতখানি ভালবাসা আর শ্রদ্ধা খাকলে এতো বড় ত্যাগ বা উৎসর্গ সম্ভব তা একমাত্র উপলদ্ধিক্ষম হৃদয়ই উপলদ্ধি করতে পারবে। হযরত আবু হোরায়রা  (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) ফরমান, যে ব্যক্তি আমাদের প্রতি যে কোন এহসান করেছে আমি তার প্রতিদান দিয়েছি, আবু বকরের এহসান ব্যতীত। তিনি আমাদের যে এহসান করেছেন, আল্লাহ পাকই কেয়ামতের দিন তাঁকে তার প্রতিদান দিবেন। আর করো মাল-সম্পদ আমাকে ততখানি  উপকৃত করতে পারেনি, যতখানি  আবু বকরের মাল আমাকে উপকৃত করেছে। আমি যদি কাউকে একান্ত বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম তবে আবু বরককেই করতাম। জেনে রাখ, তোমাদের সাথী আল্লাহই একান্ত বন্ধ। (তিরমযী)

সবচেয়ে বড় বন্ধুত্ব হয় মানুষ আর আল্লার সাথে-যেখানে নেই কোন কামনা বাসনা চরিতার্থের উদ্দেশ্য। যেহেতু আল্লা মানুষ সৃষ্টি করেছেন অনেক প্রেম দিয়ে-সর্ব শ্রেষ্ঠ করে। এমনকি ফেরেস্তাদের ও মানুষকে সম্মান জানাতে সেজদা করতে হয়েছে। সেই মানুষ যখন তাঁর প্রদর্শিত পথ ছেড়ে পাপের পথে চলে তবুও তিনি মানুষকে ক্ষমা করেন। এবং উপদেশ দেন, ‘পাপকে ঘৃনা কর, পাপীকে নয়।’ আল্লা মানুষকে নিজের বন্ধু বলতে দ্বিধা করেন না।
আবার মানুষ ও আল্লার প্রেমে কম মত্ত হয়নি। নবী (সাঃ) সহ্য করেছেন অসহ্য যন্ত্রণা, নবুয়ুতের বিরোধী প্রতিক্রিয়াশী চক্র পাথর মেরে দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছে। টাকা ও ভোগ বিলাসের লোভ দেখিয়েছে, তবুও তাঁকে আল্লার পথ থেকে দুরে নিতে পারেনি ।  নবী (সাঃ) নেতৃত্বে দ্বীনকে কায়েম করতে বহু সাহাবা দিয়েছেন নিজের বুকের তাজা রক্ত। বেলাল (রাঃ) কে চাবুক মেরে রক্তাত্ব করা হয়েছে, মরুভূমীর তপ্ত সূর্যের নীচে বুকে পাথর চাপা দিয়েও আল্লার প্রেম  ‍ভুলাতে পারেনি, মাক্কার কাফেররা। এরই নাম প্রেম বা বন্ধুত্ব।

আল্লা সর্ব শ্রেষ্ঠ এবং সর্বত্ত বিরাজমান। তাঁর বিরাটত্বের তুলনা করা অসম্ভব। এই মহা বিশ্বে এক গ্যালাক্সি থেকে আরেক গ্যালাক্সি হলো কোটি কোটি আলোকবর্ষ (এক আলোক বর্ষ =  ৬০ × ৬০ × ২৪ × ৩৬৫ × ১,৮৬,০০০)  এক সেকেন্ডে এক লাখ ছিয়াশি হাজার মাইল হলো আলোকের গতি। অর্থাৎ ১,৮৬,০০০ × ৬০ × ৬০= ১ মিনিট × ৬০= ১ ঘন্টা, ২৪ ঘন্ট = একদিন, এর ৩৬৫ দিন = ১ আলোক বছর। এই হিসেবে কোটি কোটি আলোকবর্ষের হিসেব লিখতে হলে সংখ্যা দিয়ে তা লেখা সম্ভব হবে না।  আলোকের গতিতে চললে তবুও এক গ্যালাক্সি থেকে আরেক গ্যালাক্সির কুল কিনারা করা যাবে না। এমন অনেক নক্ষত্র আছে সৃষ্টি থেকে আরম্ভ করে হাজার কোটি বছর ধরে আলোকের গতিতে চলেও যার আলো এখনও পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারেনি। আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের (বড়ত্ব) তুলনা কিছুর সাথেই করা যায় না তবুও যদি আর একটু সহজভাবে বলার চেষ্টা করা হয় তবে বলতে হবে তিনি (আ্ল্লা) যেন পৃথিবীর সমস্ত মহাসমুদ্রে যতো পানি আছে ততো পানি আর মানুষ যেন মহা সমুদ্রের সমস্ত পানির মধ্যে এক পরমাণু সমান পানি মাত্র। মরমাণুর পরিমাপ করা চলে-এক গেলাস পানিতে যে পরিমাণ পরমাণু আছে ততো গ্লাস পানি এই সৃষ্টিতেই নেই। যদিও এ তুলনা করা ঠিক নয়, কারণ আল্লা কিছুর সাথেই তুলনীয় নয়-তাঁর তুলনা তিনি নিজেই।

আমরা মানুষ অহংকার করি, কিন্তু আল্লার বিড়াটত্বের সত্বেও অসহায় মনুষের ক্ষুদ্রত্বও সীমাবদ্ধতা তাঁর (আল্লা) কাছে আদরনীয়। অথচ সাধারণভাবে আমরা পারি না আমাদের সমতুল্য না হলে করো সাথে বন্ধুত্ব করতে। আমরা বন্ধুত্ব করতে স্ট্যাটাস খুঁজি-বলে থাকি অমুকের কি আমার সাথে চলার যোগ্যতা আছে?

আমাদের সকলেরই উচিত, বড়-ছোট, ধনি-দারিদ্রের ভেদাভেদ না টেনে সকলের প্রতিই বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো। আমরা সকলেই সকলের জন্য বন্ধু হিসেবে কিছু করলে, আমাদের কমতি হবে না। কিন্তু সৃষ্টির মধ্যে সমন্বয় হবে এবং শান্তি বজায় থাকবে। তবে সব কিছুই হতে হবে সৎ উদ্দেশ্যের জন্য। তবেই তা হবে বরকত পূর্ণ।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইত; তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) যা বলতেনবিস্তারিত জানুন যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইত; তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) কি বলতেন
না দেখেই বিয়ে: অতঃপর বাসরঘরে যা দেখলেন যুবক!বিস্তারিত জানুন না দেখেই বিয়ে: অতঃপর বাসরঘরে যা দেখলেন যুবক!
আল্লাহ তা’য়ালা মদকে তিনটি পর্যায়ে হারাম ঘোষনা করেনবিস্তারিত জেনে নিন আল্লাহ তা’য়ালা মদকে তিনটি পর্যায়ে হারাম ঘোষনা করেন
জাকাতের অর্থ দেয়া যাবে যাদেরজাকাতের অর্থ দেয়া যাবে যাদের সম্পর্কে
সকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়তেন প্রিয়নবিসকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়তেন প্রিয়নবি সম্পর্কে
রমজানের অন্যতম শিক্ষা ‘জামাআতে নামাজ আদায়’রমজানের অন্যতম শিক্ষা ‘জামাআতে নামাজ আদায়’ সম্পর্কে
জুমআর নামাজ তরক করা মারাত্মক গোনাহজুমআর নামাজ তরক করা মারাত্মক গোনাহ সম্পর্কে
রমজানের পর শাওয়ালের ৬ রোজার প্রয়োজনীয়তারমজানের পর শাওয়ালের ৬ রোজার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে
লাইলাতুল কদর : যেভাবে কাটাবেন আজকের রাতলাইলাতুল কদর : যেভাবে কাটাবেন আজকের রাত সম্পর্কে
রমজানের শেষ দিনগুলোর বিশেষ আমলরমজানের শেষ দিনগুলোর বিশেষ আমল সম্পর্কে
আরও ৬৪৯ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি