পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

জমিদারের সৃষ্টিকর্তাকে দেখার আকাঙ্খা

এক স্বনাম ধন্য জমিদার ছিল, তার কোন কিছুরই অভাব ছিল না। একদিন সে চিন্তা করল, জীবনে অনেক কিছু পেলাম, অনেক কিছুই দেখলাম। কিন্তু একটা জিনিস দেখলাম না। এ জিনিসটা দেখলেই আমার জীবনের সকল সাধ পূর্ণ হয়। যিনি আমাকে সৃষ্টি করলেন, আমাকে ধন-সম্পদ, স্ত্রী-পুত্র আর ভোগের সামগ্রী দান করলেন সে সৃষ্টিকর্তাকে দেখা হলো না। সুতরাং যেভাবেই হোক তাকে দেখতে হবে।
জমিদার বাড়ি থেকে বের হলেন। এক ব্রাক্ষণ পুরোহিতের কাছে গিয়ে বললেন, “আমি সৃষ্টিকর্তাকে দেখতে চাই। আপনি কি আমাকে দেখাতে পারেন?
ব্রাক্ষণ বললো, ‘অবশ্যই! ভিতরে আসুন।” একথা বলে জমিদারকে মন্দিরের ভিতরে নিয়ে গিয়ে একটি মূর্তি দাড় করানো ছিল তার দিকে ইশারা করে বললো, “এই যে ইনি হলেন সৃষ্টিকর্তা।”
জমিদার বাবু বললেন, “এই সৃষ্টিকর্তা নয়। আসল সৃষ্টিকর্তাকে দেখতে চাই।”
ব্রাক্ষণ বললো, “আমার কাছে এ সৃষ্টিকর্তাই আছে। এ ছাড়া আমি আর কিছু দেখাতে পারবো না।”
জমিদার বাবু সেখান  থেকে বিদায় হলেন। তিনি শুনতে পেলেন অমুক জায়গায় এক সাধু আছে, বহুদিন থেকে সে সাধনা করছে। সে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা দেখাতে পারবে। সুতরাং জমিদার সেদিকে রওয়ানা হলেন। সাধুর আশ্রমে গিয়ে বললেন, “বহুদিন থেকে আমার সৃষ্টিকর্তা দেখার ইচ্ছা হয়েছে। আপনি যদি আমাকে সৃষ্টিকর্তা দেখান তবে আমার বহুদিনের একটি সাধ পূর্ণ হবে।
সাধু বললেন, ঠিক আছে। এখনই সৃষ্টিকর্তা দেখিয়ে দিচ্ছি। ঐ যে দেখছেন পর্দা! ঐ পর্দা সরালেই সৃষ্টিকর্তা দেখতে পাবেন।
জমিদার পর্দা সরাতেই দেখেন বিশাল এক পাথরের মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। তিনি সাধুকে বললেন, “এসব সৃষ্টিকর্তা তো ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি। আমি আসল সৃষ্টিকর্তা দেখতে চাই।
সাধু বললেন, “এই সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আমার কাছে আর কোন সৃষ্টিকর্তা নেই। আপনি অন্য খানে চেষ্টা করুণ।”
অতঃপর জমিদার বাবু আরেক সাধুর সন্ধান পেলেন। অনেক দূর সফর করে সে সাধুর কাছে গিয়ে তার মনের বাসনা ব্যক্ত করলেন।
সাধু বললেন, “এখন এখানেই অপেক্ষা করুণ। গভীর রাত্রে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়বে, চারিদিক নীরব নিস্তব্ধ হবে তখন সৃষ্টিকর্তা আগমন করবেন।”
জমিদার সাধুর কথামত অপেক্ষা করতে লাগলেন। রাত্রি যখন গভীর হলো তখন তাকে নিয়ে সাধু মন্দির থেকে বের হলেন। সাধু দূরে দিগন্তের দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করে বললেন, “ঐ যে দেখেন, একটা আলো এদিক থেকে ওদিকে যাচ্ছে ঐটাই পরমেশ্বরের জ্যোতি। জীবন্ত সৃষ্টিকর্তা, তিনি চলা-ফেরা করেন।”
জমিদার বাবু অবাক হলেন। কিন্তু তবু তার দ্বন্দ্ব রয়ে গেল। তিনি বললেন, “তাহলে কাছে গিয়ে দেখে আসি?”
সাধু বললেন, খবরদার! কাছে যেয়ো না জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।”
জমিদার বাবু আগ্রহের আতিশয্যে ছুটে গেলেন পরমেশ্বরের জ্যোতি দেখতে। কাছে গিয়ে দেখেন একটি কচ্ছপের পিঠের উপর সিমেন্টের ঢালাই করা সমতল একটা পাটাতন। তার উপর প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে। কচ্ছপটি এদিক-সেদিক চলাফেরা করার সময় প্রদীপের আলো এদিক-সেদিক চলাফেরা করছে। একেই পরমেশ্বরের জ্যোতি নাম দিয়ে সাধু অনেক লোককে দেখিয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন।
জমিদার বাবু সাধুর কাছে এসে বললেন, “এটা তো একটা কচ্ছপ মাত্র, সৃষ্টিকর্তা কোথায়?”
সাধু বললেন, “আমার কাছে এইটাই আছে আর কোন সৃষ্টিকর্তা নেই। তবে তোমার কাছে আমার অনুরোধ, কারো কাছে একথা প্রকাশ করবে না। তুমি কোথাও যেয়ো না। আমার কাছে থেকে যাও। হালুয়া রুটি এখানে প্রচুর আছে খেতে পারবে।”
জমিদার বললেন, হালুয়া রুটি আমার বাড়িতে অনেক আছে। হালুয়া চাই না। সৃষ্টিকর্তাকে দেখতে  চাই।”
অবশেষে তিনি মুসলমানদের শরণাপন্ন হলেন। এক মসজিদে গিয়ে একজন মুসল্লিকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের মধ্যে সব চেয়ে বড় আলেম কে?”
লোকটি আমার নাম বলে দিল যে তিনি হলেন মাওলানা আশরাফ আলী থানবী।
অতঃপর জমিদার বাবু বহু রাস্তা অতিক্রম করে একদিন আমার কাছে এসে বললো, “আমি আল্লাহকে দেখতে চাই। বহু লোকের কাছে গেছি কেউ আমাকে আল্লাহ দেখাতে পারেনি। সাধু-সন্ন্যাসী-পুরোহিতের কাছে গেলাম সবাই প্রতারণা করেছে। আমি আশা করি আপনি আমাকে আল্লাহ দেখাতে পারেন তবে আমি মুসলমান হয়ে যাবো।”
আমি বললাম, “তোমার মুসলমান হওয়াতে আমার কোন প্রয়োজন নেই। যদি তুমি মুসলমান হও তবে তুমি দোযখের আযাব থেকে বেঁচে যাবে এবং বেহেস্তের অধিকারী হতে পারবে তাতে তোমারই লাভ হবে।
আমার কোন প্রয়োজন নেই। তবে একটি কথা বলে দিচ্ছি, এ দুনিয়াতে কোনদিন আল্লাহকে দেখতে পাবে না। দুনিয়াতে আল্লাহকে দেখা সম্ভব না।
“আরেকটি সত্য কথা শুনে রাখ, তুমি যদি মুসলমান ও হও তবে অবশ্যই বেহেস্তের প্রবেশ করবে। সত্য হলো একজন মুসলমান মৃত্যুর পরে যখন বেহেস্তের প্রবেশ করবে তখন অবশ্যই সে আল্লাহকে দেখতে পারবে।
লোকটির অন্তরে সত্য এত আছর করলো যে সে তখন বলে উঠলো, “হুজুর, আমি মুসলমান হতে চাই, আমাকে মুসলমান করে নিন।”
আমি তার আন্তরিকতা দেখে হাত বাড়িয়ে দিলাম।
কালেমা পড়ে সঙ্গে সঙ্গে মুসলমান হয়ে গেল।
(আল-এফাযাতুল ইয়উমিয়্যাহ)
 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইত; তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) যা বলতেনবিস্তারিত জানুন যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইত; তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) কি বলতেন
না দেখেই বিয়ে: অতঃপর বাসরঘরে যা দেখলেন যুবক!বিস্তারিত জানুন না দেখেই বিয়ে: অতঃপর বাসরঘরে যা দেখলেন যুবক!
আল্লাহ তা’য়ালা মদকে তিনটি পর্যায়ে হারাম ঘোষনা করেনবিস্তারিত জেনে নিন আল্লাহ তা’য়ালা মদকে তিনটি পর্যায়ে হারাম ঘোষনা করেন
জাকাতের অর্থ দেয়া যাবে যাদেরজাকাতের অর্থ দেয়া যাবে যাদের সম্পর্কে
সকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়তেন প্রিয়নবিসকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়তেন প্রিয়নবি সম্পর্কে
রমজানের অন্যতম শিক্ষা ‘জামাআতে নামাজ আদায়’রমজানের অন্যতম শিক্ষা ‘জামাআতে নামাজ আদায়’ সম্পর্কে
জুমআর নামাজ তরক করা মারাত্মক গোনাহজুমআর নামাজ তরক করা মারাত্মক গোনাহ সম্পর্কে
রমজানের পর শাওয়ালের ৬ রোজার প্রয়োজনীয়তারমজানের পর শাওয়ালের ৬ রোজার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে
লাইলাতুল কদর : যেভাবে কাটাবেন আজকের রাতলাইলাতুল কদর : যেভাবে কাটাবেন আজকের রাত সম্পর্কে
রমজানের শেষ দিনগুলোর বিশেষ আমলরমজানের শেষ দিনগুলোর বিশেষ আমল সম্পর্কে
আরও ৬৪৯ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি