ব্যাগে কত টাকা নিয়ে আপনি বের হবেন, পথে তো নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় পড়তে হতেই হয়। এর সহজ সমাধান দিতে পারে ক্রেডিট কার্ড। এটি ব্যবহারের ফলে সব সময় টাকা বহন করার প্রয়োজন নেই। তবে অনেকে বেশি খরচ করে ফেলে পরে ঝামেলায় পড়তে পারেন। কার্ড হারিয়েও বিপদে পড়েন অনেকে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের আগে তাই জেনে নিন... বিস্তারিত
স্কুলে পড়াশোনা না করলেও টমাস আলভা এডিসন বাল্যকালেই তাঁর পাড়ার লাইব্রেরীর সব বই পড়ে শেষ করেছিলেন। হয়ত একারণেই তিনি ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকে পরিণত হয়েছিলেন। জ্ঞানের পরিপূর্ণ বিকাশে গ্রন্থাগার সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত। আদর্শ সমাজ, সভ্য ও শিক্ষিত জাতি বিনির্মাণে গ্রন্থাগার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক-একটি গ্রন্থাগার যেন জ্ঞানের বিশাল এক ভূখন্ড। উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোনোর পর শিক্ষকগণ ছাত্রদের বলে থাকেন, ‘এখন অধিকাংশ সময় তোমাদের লাইব্রেরীতেই কাটাতে হবে’। তবে শুধু ছাত্র-ছাত্রী নয় গবেষকসহ সকলেরই লাইব্রেরীর প্রয়োজন হয়। যে জাতি যত বেশি মননশীল, তত বেশি লাইব্রেরী ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায় সে জাতির মধ্যে।
সারাদেশেই লাইব্রেরী আছে, তবে মূলত ঢাকা শহরকে কেন্দ্র করেই বড় লাইব্রেরীগুলো গড়ে উঠেছে। তাছাড়া বিশেষ প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরীও রয়েছে যেমন- ব্যান্ডসডক লাইব্রেরি, পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, বাংলা একাডেমী, এশিয়াটিক সোসাইটি লাইব্রেরি। বৃটিশ কাউন্সিল, আমেরিকান কালচারাল সেন্টার, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন বিদেশী সংস্থার লাইব্রেরীও আছে এ শহরে। আর সবার কাছে পরিচিত পাবলিক লাইব্রেরিতো রয়েছেই।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনও বিভিন্ন ওয়ার্ডে বেশ কয়েকটি লাইব্রেরি পরিচালনা করছে। আর স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগেও লাইব্রেরি পরিচালিত হচ্ছে। সকল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল কলেজের লাইব্রেরীও অত্যন্ত কাজের। তবে এখন পর্যন্ত সব স্কুলে লাইব্রেরী নেই।
বড় লাইব্রেরীগুলোয় ক্যাটাগরী ভিত্তিকভাবে বইগুলো সাজানো থাকে। ফলে আগ্রহী পাঠক সহজেই সংশ্লিষ্ট বইয়ের এলাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় বইটি খুঁজে নিতে পারেন। ক্যাটালগও রাখা হয় বই খুঁজে পাওয়ার সুবিধার্থে। আর লাইব্রেরীয়ানসহ অন্যান্য কর্মীগণতো আছেনই। ইদানিংকালের লাইব্রেরীগুলোয় অবশ্য ইলেকট্রনিক ডাটাবেজ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব লাইব্রেরীগুলোয় বইয়ের সাথে একটি বারকোড স্টীকার লাগানো থাকে। যেটি বই ইস্যু করা এবং ফেরত নেয়ার সময় স্ক্যান করে ডাটাবেস আপগ্রেড করা হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে সহজেই বলে দেয়া যায় কোন বইটি বর্তমানে লাইব্রেরীতে আছে আর কোনটি নেই।
লাইব্রেরীগুলোয় পত্রিকা, জার্নাল, রেফরেন্স বই ইত্যাদির জন্য আলাদা আলাদা এলাকা থাকে। শিশুদের জন্যও আলাদা একটি এলাকা রয়েছে শাহবাগের কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীতে। অবশ্য এক কক্ষবিশিষ্ট লাইব্রেরীও হতে পারে। পড়া-মহল্লার লাইব্রেরীগুলো সাধারণত এক কক্ষ বিশিষ্টই হয়ে থাকে।
সব লাইব্রেরীতে বই ধার নেয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার লাইব্রেরী থেকে বই ধার নেবার সুযোগ দিয়ে থাকে। আর প্রতিষ্ঠানটি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর মাধ্যমেও বই ধার দেয়। শুধু বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নয়, বৃটিশ কাউন্সিলসহ আরও কিছু লাইব্রেরী বই ধার নেবার সুযোগ দেয়। তবে বই ধার নেবার পূর্বশর্ত হচ্ছে সদস্য হওয়া। আর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরী থেকে বই ধার নেয়ার সুবিধা পান।
বিভিন্ন লাইব্রেরী থেকে বই ধার নেবার নিয়ম বিভিন্ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সমস্যা না হলেও পেশাজীবিদের ক্ষেত্রে সত্যায়নের পাশাপাশি জামানত এবং গ্যারান্টর প্রয়োজন হয়। যেমন বৃটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরীর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান বা হল প্রভোষ্টের সাক্ষর প্রয়োজন হয়। আর পেশাজীবিদের ক্ষেত্রে ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তার সাক্ষর প্রয়োজন হয়। এক সাথে কয়টি বই ধার নেয়া যাবে তারও একটি সীমা বেঁধে দেয়া হয়। তবে মেয়াদ শেষে একই বই পুনরায় ইস্যু করিয়ে নেয়া যায়। সব লাইব্রেরীতেই বই দেরি করে জমা দেয়া ক্ষেত্রে কমবেশি জরিমানা গুণতে হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক লাইব্রেরী যেমন এশিয়াটিক সোসাইটি, পরমাণু শক্তি কমিশন, পুলিশ, আইনজীবি সমিতি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের আলাদা লাইব্রেরী আছে যেখান থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বইধার নিতে পারেন। তবে সব মানুষের প্রবাশেধিকার এবং বই ধার নেবার সুবিধা ওসব লাইব্রেরীতে নেই।
বিভিন্ন লাইব্রেরী ব্যবহারের নিয়ম বিভিন্ন। সাধারণ নিয়ম হচ্ছে পাঠক সেলফ থেকে বই সংগ্রহ করবেন কিন্তু সেলফে রাখবেন না। লাইব্রেরীর কর্মীগণ যথাস্থানে রাখবেন যাতে পরবর্তীতে সেটি সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। অবশ্য অনেক লাইব্রেরীর নিয়ম হচ্ছ পাঠক ক্যাটালগ দেখে বলবেন তার কোন বই প্রয়োজন, এরপর তাকে নামিয়ে দেয়া হবে। পাঠক কখনোই সেলফ পর্যন্ত যাবেন না। অন্য বই কিংবা ব্যাগ নিয়ে লাইব্রেরীতে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না।
পাবলিক লাইব্রেরী, ব্যান্ডসডক লাইব্রেরীসহ বেশ কিছু লাইব্রেরীতে ফটোকপি করা ব্যবস্থা আছে। পাঠক চাইলে বইয়ের প্রয়েজনীয় অংশের ফটোকপি করিয়ে নিতে পারেন।
লাইব্রেরী ব্যবহারের সাধারণ কিছু নিয়ম:
গ্রন্থাগারের অভ্যন্তের ব্যাগ, কোন প্রকার বই ও মলাট বাঁধানো খাতা নিয়ে প্রবেশ করা যায় না,
কোন প্রকার খাদ্যদ্রব্য নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ ,
যথাসম্ভব নীরবতা বজায় রাখা উচিত,
গ্রন্থাগারের ভেতরে ধুমপান করা এবং ঘুমানো নিষিদ্ধ ,
পাঠ্যবই, ম্যাগাজিন ও অন্য কিছুর পাতা কাটা/ছেঁড়া যায় না,
মূল্যবান সামগ্রী, নগদ অর্থ, মোবাইল ও অন্যান্য জিনিস নিজ দায়িত্বে রাখতে হয়,
মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হয়,
এক সেলফের বই অন্য সেলফে রাখা ঠিক নয়,
প্রয়োজনে সহায়তা দানের জন্য লাইব্রেরীয়ান থাকে যিনি কোন বই কোথায় আছে ইত্যাদি তথ্য দেন, এমনকি কোন বিষয়ের ওপর কি কি বই আছে সে সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাও দেন,
প্রয়োজনে তল্লাশীও করা হতে পারে,
বই বা অন্য কিছু ক্রয় করলে মানি রিসিট সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকে,
লাইব্রেরীকে সৌজন্য কপি দিতে চাইলে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়।
কিছু কিছু লাইব্রেরী রয়েছে যেগুলো সকল শ্রেণীর পাঠক/পাঠিকাদের জন্য উন্মুক্ত। এসব লাইব্রেরীতে বই পড়ার জন্য কোন সদস্যপদ বা মাসিক ফি এর প্রয়োজন হয় না। যেমন পাবলিক লাইব্রেরী। কিছু লাইব্রেরি সকলের জন্য উম্মুক্ত নয়, প্রবেশধিকার সংরক্ষিত। নির্ধারিত ফি এর বিনিময়ে এসব লাইব্রেরীতে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়, যেমন বৃটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরী। আবার কিছু লাইব্রেরীর নির্দিষ্ট পাঠক রয়েছে। যেখানে অন্য কেউ বই পড়ার সুযোগ পায় না। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরী।
শাহবাগের পাবলিক লাইব্ররী প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা বিভিন্ন উপলক্ষ্যে বই মেলার আয়োজন করে থাকে। এছাড়া লাইব্রেরীটির আধুনিক অডিটোরিয়ামে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। লাইব্রেরী সমূহ বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে শিশু কিশোরদের জন্য চিত্রাংকন, কবিতা আবৃত্তি ও অন্যান্য বিষয়ের উপর প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়।
প্রায় ৭ হাজার বই আছে এখানে। এছাড়া গান, সিনেমা, চিত্রকলাও ফটোগ্রাফির এক সমৃদ্ধ সংগ্রহ রয়েছে। ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং শিশুদের জন্য বিনোদনের মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য মাল্টিমিডিয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
সদস্যগণ একসাথে চারটি বই, একটি ম্যাগাজিন ও একটি জার্নাল ২ সপ্তাহের জন্য ধার নিতে পারেন।
ফ্রেঞ্চ ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য সদস্য ফি এক হাজার টাকা, অন্য বাংলাদেশীদের জন্য দুই হাজার টাকা আর বিদেশীদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা।
সদস্য হতে নির্ধারিত ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য, দুই কপি ছবি এবং পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
সময়সূচি:
সোমবার ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
ঢাকার বাংলামোটরে লাইব্রেরীটির অবস্থান। প্রায় একলাখের মত বই আছে এখানে। এছাড়াও সংবাদপত্রের সমৃদ্ধ একটি সংগ্রহ রয়েছে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ছাড়াও মানুষের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দিতে ৩০ টি গাড়ি নিয়ে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি গাড়িতে ৫০০ থেকে ১০,০০০ পর্যন্ত বই থাকে। ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্ট ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হয় এই লাইব্রেরী। সদস্যরা এখান বই ধার নিয়ে পড়ার সুযোগ পান।
ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর সদস্য হতে হলে ১০০-২০০ টাকা জামানত হিসেবে দিতে হবে, আর মাসিক চাঁদা ১০ টাকা।
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সদস্য হতে হলে ২০০-৪০- টাকা জামানত হিসেবে দিতে হবে, মাসিক চাঁদা ১০ টাকা।
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ঠিকানাঃ ১৪, ময়মনসিংহ রোড, বাংলামোটর, ঢাকা। ফোনঃ ৯৬৬০৮১২, ৮৬১৮৫৬৭
এশিয়াটিকসোসাইটিলাইব্রেরী
কেবল গবেষণামূলক বই মিলবে এখানে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
ঠিকানাঃ ৫ পুরনো সেক্রেটারিয়েট রোড, রমনা, ফোন: ৯৫৬০৫০০
সাংবাদিকদের কথা চিন্তা করে সাংবাদিকতা সংক্রন্ত সব বিভিন্ন বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লাইব্রেরীটি। দেশ জার্নালেরও বিশাল একটি সংগ্রহ আছে এখানে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ঠিকানাঃ পিআইবি সার্কিট হাউজ রোড, বাড়ি-৩, কাকরাইল, ফোন: ৯৩৩৩০০৮১-৫
ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকে। চাইলে বইয়ের ফটোকপি করিয়ে নেয়া যায়। স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থা, শিল্প প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানসহ গবেষণাভিক্তিক ৯ হাজার বই আছে এখানে। ঠিকানাঃ আনসারী ভবন, ২য় তলা, ১৪/২, তোপখানা রোড; ফোন: ৮৬১০৬৫৭
ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়লাইব্রেরী
কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর ছাত্রদের প্রবেশাধিকার রয়েছে সমৃদ্ধ এই লাইব্রেরীটিতে। ফোন: ৯৬৬১৯০০
রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সকাল ১০ থেকে বিকেল ৪টা এবং বুধবার সকাল ১০ থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। লাইব্রেরীটির সদস্য ফি ৫০০ টাকা। ঠিকানাঃ বাড়ি-১১০, রাস্তা-২৭, বনানী, ফোন: ৮৮১৩৪৪০-৪
এখানে কোন বাংলা বই নেই, কেবল ইরেজী বই পাওয়া যায়। তবে প্রচুর বই থাকার কারণে অত্যন্ত কাজের লাইব্রেরী এটি। ২৫ হাজারের বেশি বই, ১৫ হাজারের বেশি সিডি-ডিভিডি ছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি সাইবার জোন আছে। এছাড়া আইইএলটিএস-এর বিভিন্ন কোর্স ম্যাটেরিয়াল পাওয়া যায় এখানে।
একজন সদস্য একসাথে চারটি বই, তিনটি জার্নাল ও দু'টি সিডি বা ডিভিডি তিন সপ্তাহের জন্য ধার নিতে পারেন।
সাধারণ সদস্য ফি ৬৫০ টাকা, আর ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা। শনি থেকে বুধবার খোলা সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পয়ন্ত খোলা থাকে আর শুক্রবার বিকাল তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকে।
বাংলা ও ইংরেজীর পাশাপাশি রাশিয়ান ভাষায় লিখিত বই বই পাওয়া যায় এখানে। প্রায় ১২ হাজার বই বই আছে। এছাড়া ম্যাগাজিন ও চলচ্চিত্রের সংগ্রহ রয়েছে। লাইব্রেরীটিতে বই পড়ার পাশাপাশি সিনেমা দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রগতি প্রকাশনের দুর্লভ বইগুলোও এখানে পাওয়া যায়।
লাইব্রেরীটি ব্যবহার করতে হলে সদস্য হতে হবে। একবছরের জন্য সদস্য ফি ৩০০ টাকা। নির্ধারিত ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিয়ে সদস্য হতে হয়। তবে রুশ কালচারাল সেন্টারের রুশ ভাষা শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে লাইব্রেরীটি ব্যবহার করতে পারেন।
সময়সূচি:
রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত লাইব্রেরী খোলা থাকে।
শুক্রবার, শনিবার ও রাশিয়ার ছুটির দিনগুলোতে লাইব্রেরী বন্ধ থাকে।
চাকুরীপ্রার্থীদের কাছে লাইব্রেরীটি বিশেষভাবে সমাদৃত কারণ এখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলো সংরক্ষণ করা হয়। ছুটির দিনছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সদস্য ফি ২০০ টাকা। ঠিকানাঃ জাতীয় গ্রন্থভবন, ৫/সি বঙ্গবন্ধু এভিনিউ (৫ম তলা), ফোন: ৯৫৫৫৭৪৫, ৯৫৫৫৭৪৩
লাইব্রেরীটিতে পৌনে দুই লাখের বেশি বই আছে, বর্তমানকালের সবগুলো পত্রিকা রাখা হয় এখানে। শিশুদের জন্য আলাদা একটি বিভাগ রয়েছে, এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য চারটি কম্পিউটার রয়েছে। বইয়ের অংশবিশেষ ফটোকপি করিয়ে নেবার ব্যবস্থাও আছে। লাইব্রেরীটি সবার জন্য উন্মুক্ত ।
লাইব্রেরীটি দিন-রাত ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে, তবে কেবল রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অফিস খোলা থাকে। ফোন: ৮৬১০৪২২, ৮৬২৬০০১-৪
জাতীয়গ্রন্থাগারওআর্কাইভস
শেরেবাংলানগর পাসপোর্ট অফিস এবং বেতার ভবনের মাঝে এই লাইব্রেরীটির অবস্থান। তিন লাখের বেশি বই আছে এখানে। শতবছরের চেয়েও পুরোনো, এমনকি পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এমন বই যেমন আছে, তেমন সম্প্রতি প্রকাশিত বইও আছে এখানে। এছাড়া রয়েছে তিন হাজারের বেশি মানচিত্র। দেশি সংগ্রহের পাশাপাশি বিদেশি প্রকাশনার ক্ষেত্রেও লাইব্রেরীটিকে বৃহত্তম বলা যায়।
একবছরের জন্য সদস্য ফি ৩০ টাকা এবং নবায়ন ফি ১০ টাকা। খোলা সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ফটোকপি করার ব্যবস্থা আছে। শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ।
কেবল বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বই আছে এখানে। চাইলে বইয়ের অংশবিশেষের ফটোকপি নেয়া যায়। এছাড়া এখানে ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর সুযোগ আছে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ঠিকানাঃ ব্যান্সডক, সায়েন্স ল্যাবরেটরি; ফোন: ৮৬২৫০৩৮-৯
নারী, স্বাস্থ্য, পরিবেশ প্রসঙ্গে গবেষণামূলক বই ও রিপোর্ট রাখা হয়েছে এখানে। প্রচুর দেশী-বিদেশী ম্যাগাজিনও রাখা হয় এখানে। সদস্য ফি ১০০ টাকা, জামানত ২০০ টাকা আর বার্ষিক চাঁদা ৫৫ টাকা। ঠিকানাঃ সড়ক-১৪, বাড়ি-৩৯, ধানমন্ডি, ফোন: ৯১১৭৬৫০
বাংলাএকাডেমীলাইব্রেরী
অনুমতি নিয়ে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বই পড়া যায়। বাংলা একাডেমী, ফোন: ৮৬১৯৫৭৭।
ঢাকার গুলিস্তানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ কমপ্লেক্স ভবনের পাঁচ তলায় লাইব্রেরীটির অবস্থান।
শনিবার এটি বন্ধ থাকে। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এটি সকাল ১০টা থেকে রাত ৮.৩০টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। শুক্রবার এবং রবিবার এটি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
জাদুঘর ভবনের তিনতলায় লাইব্রেরীটির অবস্থান। প্রধানত মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা ৩০০০ হাজারেরও বেশি বইয়ের সংগ্রহ আছে এখানে। প্রতি বছরই মুক্তিযুদ্ধের ওপরে লেখা নতুন বইগুলো এ লাইব্রেরীর জন্য সংগ্রহ করে সংগ্রহকে আরও সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। এখান থেকে বই বাসায় নেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই।
জাদুঘর ভবনের দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেরীটির অবস্থান। এখানে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ বই আছে। মূলত গবেষণামূলক বই এগুলো।
ফোন: ৯৬১৯৩৯৬-৯৯
জাতীয়বিজ্ঞানওপ্রযুক্তিজাদুঘরলাইব্রেরী
শেরেবাংলানগরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ভবনের তৃতীয় তলায় চার হাজারেরও বেশি বই নিয়ে মাঝারি আকারের এই লাইব্রেবীটির অবস্থান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বই এবং জার্নাল এর বেশ সমৃদ্ধ সংগ্রহ রয়েছে এখানে। এছাড়া রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। প্রধানত পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, গণিত, প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ভেষজ বিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নির্ভর বই রয়েছে এখানে। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা থেকে প্রকাশিত বুলেটিন, জার্নাল ইত্যাদিও রাখা হয় এখানে। সিডি, ডিভিডি ছাড়াও ফিল্মে ১৬ এবং ৩৫ মি.মি. ফরম্যাটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টরি রয়েছে লাইব্রেরীটিতে। শু্ক্রবার ও শনিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি।
একাডেমীর জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্রের তৃতীয় তলায় লাইব্রেরীটি অবস্থিত। এখানে শিল্প সাংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দেশী-বিদেশী মিলিয়ে প্রায় সাত হাজারের বেশি বই আছে। বিশেষ করে চারুকলা, আলোকচিত্র ভাস্কর্য, নাটক, সাহিত্য প্রভৃতি বিষয়ের ওপর বেশকিছু মূল্যবান দূর্লভ গ্রন্থ গ্রন্থাগারটিকে সমৃদ্ধ করেছে। এছাড়া সংগীত, নৃত্য, নাটক, আবৃত্তি, চলচ্চিত্র, যাত্রা, হস্তশিল্পসহ লোক-সাংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়ের উপর অনেক মূল্যবান গ্রন্থে গ্রন্থাগারের কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমী কেন্দ্রীয় কার্যালয় - পুরাতন হাইকোর্ট এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ৯৫৫০৩১৭, ৭১৬৮৬৩১।
ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র লাইব্রেরী
লাইব্রেরীটি সাবার জন্য উন্মুক্ত। ২১ হাজারের বেশি বই ছাড়াও রেফারেন্স ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে এখানে। ব্যবহারকারীরা চাইলে বইয়ের ফটোকপি করিয়ে নিতে পারেন।
এখান থেকে বই ধার নেয়া যায়, তবে ধার নিতে হলে সদস্য হতে হবে। একটি ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি দিয়ে সদস্য হতে হবে। এসময় জামানত হিসেবে এক হাজার টাকা দিতে হয়।
শনিবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
ঠিকানা: বাড়ি-৩৫, রোড-২৪, গুলশান-১, ঢাকা
ফোন: ৮৮৫০১৪১।
গ্যেটে ইনস্টিটিউট লাইব্রেরী
লাইব্রেরীটি সবার জন্য উন্মুক্ত। পাঁচ হাজারের বেশি বই, ম্যাগাজিন এবং সিডি-ডিভিডি রয়েছে। শুধু বই পড়া নয়, সিনেমা দেখারও ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। এছাড়া ফটোকপি ও কম্পিউটার প্রিন্টআউট নেয়া যায়। লাইব্রেরীর সদস্যগণ একসাথে দু'টি বই ও দু'টি ম্যাগাজিন ধার নিতে পারেন।
এক বছরের জন্য সদস্য ফি ৬০০ টাকা। নির্ধারিত ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি দিয়ে সদস্য হতে হবে। এছাড়া সরকারী কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধানের সত্যায়ন প্রয়োজন হয়।
সময়সূচি:
শনিবার: দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা
রবিবার: বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা
সোমবার: দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা
মঙ্গল ও বুধবার দুপুর ১২টা থেকে রাতা ৮টা
বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও সরকরী ছুটির দিনে বন্ধ থাকে।
প্রায় ৫,৫০০ বই ছাড়াও বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়। লাইব্রেরীটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। এছাড়া সদস্য হয়ে এক সপ্তাহের জন্য বই ধার নেয়া যায়। সদস্য ফি ৩০ টাকা, মাসিক চাঁদা ১৫ টাকা এবং জামানত ১০০ টাকা।
বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ।
ঠিকানা: ১৭/১, দিননাথ সেন রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকায় এক তলা ভবনে গ্রন্থাগারটি অবস্থিত।
প্রায় ২০,০০০ হাজার বই রয়েছে এখানে। সদস্য হতে হলে ১,০০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়, নবায়ন ফি ৫০০ টাকা। সর্বোচ্চ সাত দিনের জন্য একটি বই ধার নিতে পারেন সদস্যগণ।
অবস্থান: জাতীয় ঈদগাঁহ ময়দানের পূর্ব দিকের গেটের পূর্ব দক্ষিণ কোণে অবস্থিত।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনে এই লাইব্রেরীটির অবস্থান। কেবলমাত্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এই লাইব্রেরী। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
এখানে প্রায় ৮,০০০ হাজার বই ছাড়াও নিয়মিত বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা রাখা হয়। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০:১৫ টা থেকে বিকাল ৪:৪৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। অবস্থান: আরমানিটোলা খেলার মাঠের সাথে শাবিস্তান হল সংলগ্ন ১ তলা ভবনে অবস্থিত।
প্রায় সাড়ে তিন হাজার বই ছাড়াও দৈনিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিন রাখা হয়। সদস্য হয়ে বই বাড়িতে নিয়েও পড়া যায়। সদস্য হতে কোন ফি দিতে হয় না। নির্ধারিত ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি এবং আইডি কার্ডের কপি জমা দিয়ে সদস্য হতে হয়। এসময় এককালীন ৩০ টাকা দিতে হয়। পরে আর কোন টাকা দিতে হয় না।
আলোঘর ছুটির দিনসহ সপ্তাহের সাতদিনই খোলা থাকে। সকাল ৯:০০ টা থেকে রাত ৮:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে শুক্রবার দুপুর ১২:০০ টা থেকে বিকাল ৩:০০ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে।
ঠিকানা
ই/১১, বর্ধিত পল্লবী, মিরপুর সাড়ে এগার, ঢাকা – ১২১৬।