পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ

সামরিক বাহিনীর মেডিকেল কোরের জন্য আগে বাইরে থেকে চিকিৎসক নেয়া হত। কিন্তু অনেক সময় দেখা যেত বাইরের মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয় গুণাবলীর কিছুটা ঘাটতি থাকে। একারণে ১৯৯৯ সালে সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আলাদা একটি মেডিকেল কলেজ আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলজ চালু করা হয়। পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফিলিয়েশন নিয়ে এখানকার এমবিবিএস কোর্স পরিচালিত হত। তবে এখন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর তদারক করে। বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এর স্বীকৃতিও আছে মেডিকেল কলেজটির।

 

 

সূচী:

 

যোগাযোগ:

শুরুতে

ওয়েবসাইট: http://www.afmcbd.com

লোকেশন: এয়ারপোর্ট রোডের পূর্ব পাশে ১৩ একর জায়গায় মেডিকেল কলেজটির ক্যাম্পাস অবস্থিত। ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশন এবং রেডিসন হোটেলের বিপরীত পাশেই এর অবস্থান।

 

কারা ভর্তি হতে পারে?

শুরুতে

প্রতিবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সরকারী এবং বেসরকারী মেডিকেল কলেজের  যে একীভূত ভর্তি পরীক্ষা হয়, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ তার আওতাভূক্ত নয়। নির্ধারিত শিক্ষাগত এবং শারীরিক যোগ্যতা থাকলে যে কেউ এখানে ভর্তি হতে পারে। দুই পদ্ধতিতে এখানে ভর্তি করা হয়; একটি হল এমসি ক্যাডেট অন্যটি এএফএমসি ক্যাডেট।

 

এএমসি ক্যাডেট

শুরুতে

এএমসি ক্যাডেটের শিক্ষা ব্যয় কর্তৃপক্ষ বহন করে এবং কোর্স শেষে চাকরিতে যোগদানের বাধ্যবাধকতা আছে। এএমসি ক্যাডেটদের ভর্তি ফি, টিউশন ফি, উন্নয়ন ফি, লাইব্রেরী ফি, ম্যাগাজিন ফি, খেলাধূলা ফি ইত্যাদি দিতে হয় না। তবে থাকার জন্য মেস ফি, লন্ড্র ফি ইত্যাদি দিতে হয়। এছাড়া এএমসি ক্যাডেটদের প্রত্যেকে পকেট মানি হিসেবে ১,৫০০ টাকা পায়।

 

এএফএমসি ক্যাডেট

শুরুতে

অন্যদিকে এএসএমসি ক্যাডেটদের শিক্ষা ব্যয় নিজেকে বহন করতে হয় এবং চাকরিতে যোগ দেবার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে অন্যান্য মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের মত এরা সামরিক বাহিনীতে যোগ দেবার জন্য আবেদন করতে পারে। এএফএমসি ক্যাডেটদের লিখিত পরীক্ষা দিতে হয় না। তবে আইএসএসবি পরীক্ষা দিতে হয়।

 

অন্যান্য

শুরুতে

বিএমএ, এএমসি সেন্টার এন্ড স্কুল এবং এএফএমআই এ ট্রেনিং সম্পন্ন করতে হয় এএমসি ক্যাডেটদের। বিএমএ-তে মেডিকেল ক্যাডেটরা ক্যাপ্টেন র‍্যাংকের বেতন ভাতা পেলেও ব্যাজ পরার অনুমতি পান না। পিআরসি পরীক্ষার পর রেগুলার কমিশন লাভ করেন ক্যাডেটরা।

মেডিকেল কোর্সটি দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় এএমসি ক্যাডেটদের তিন বছরের অতিরিক্ত সিনিয়রিটি দেয়া হয়।

 

ভর্তির যোগ্যতা:

শুরুতে

  • জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  • ছেলে-মেয়ে উভয়ই আবেদন করতে পারে, বয়স অন্ত বিশ হতে হবে।
  • অবিবাহিত হতে হবে।

 

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

শুরুতে

  • পদার্থ, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানসহ এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।
  • এসএসসি এবং এইচএসসির প্রতিটি পরীক্ষায় নূন্যতম জিপিএ ৪.০০ করে মোট জিপিএ ৮.০০ হতে হবে।
  • ভর্তি বছরের আগের বছরে পাশ করা শিক্ষার্থীরাও আবদন করতে পারে।
  • জীববিজ্ঞানের জিপিএ অন্তত ৩.০০ থাকতে হবে।

 

শারীরিক যোগ্যতা:

শুরুতে

এএমসি ক্যাডেট এবং এএফএমসি ক্যাডেটদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা একটু আলাদা।

 

এএমসি ক্যাডেট:

শুরুতে

  • উচ্চতা: পুরুষ- নূন্যতম ১.৬৩ মি বা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি, মহিলা-১.৫৫ মিটার বা পাঁচ ফুট এক ইঞ্চি।
  • ওজন: পুরুষ-নূন্যতম ৪৫.৩৬ কেজি, মহিলা ৪০.৭২ কেজি।
  • বুকের মাপ: পুরুষ-স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭৬ মি. এবং প্রসারিত অবস্থায় ০.৮১ মি., মহিলা: স্বাভাবিক অবস্থায়: ০.৭১ মি.
  • শ্রবণ ক্ষমতা স্বাভাবিক হতে হবে এবং বর্ণান্ধতা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

এএফএমসি:

শুরুতে

  • উচ্চতা: পুরুষ- নূন্যতম ১.৫৭ মি বা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি, মহিলা-১.৫০ মিটার বা পাঁচ ফুট এক ইঞ্চি।
  • ওজন: এএমসি ক্যাডেটদের ক্ষেত্রে নূন্যতম ওজনের ২০% কম বা সর্বোচ্চ ওজনের ২০% বেশি পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়।
  • বুকের মাপ: পুরুষ-স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭৬ মি. এবং প্রসারিত অবস্থায় ০.৮১ মি., মহিলা: স্বাভাবিক অবস্থায়: ০.৭১ মি.
  • শ্রবণ ক্ষমতা স্বাভাবিক হতে হবে এবং বর্ণান্ধতা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

কোটা:

শুরুতে

মোট ১০০ জন ক্যাডেটের ৪০% এএমসি ক্যাডেট হিসেবে ভর্তি করা হয়। ৩০ ভাগ আসন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়, ২ ভাগা আসন সংরক্ষণ করা হয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য আর ১ ভাগ আসন সংরক্ষণ করা হয় উপজাতিদের জন্য। ছাত্র-ছাত্রীর অনুপাত ৭০:৩০ রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রয়োজনানুসারে এর পরিবর্থন হতে পারে।

 

আবেদন ফরম সংগ্রহ:

শুরুতে

মেডিকেল কলেজের মূল অফিসে শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে দুপুর ২:৪৫ পর্যন্ত ভর্তি ফরম বিক্রি করা হয়। ভর্তি ফরমের মূল্য ৫০০ টকা। আবেদন ফরমের সাথে ছবি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার মার্কশীট, সার্টিফিকেট, প্রশংসাপত্র ইত্যাদির সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়। এ-লেভেল পাশ করা শিক্ষার্থীদের ইকুইভ্যালেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।

 

ভর্তি পরীক্ষা:

শুরুতে

এএমসি এবং এএফএমসি-র জন্য যথাক্রমে ২২০০ এবং ১৮০০ করে মোট ৪,০০০ আবেদনকারীকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। পাশ নম্বর ৫০। এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাস থেকে প্রশ্ন করা হয়। পদার্থবিজ্ঞা, রসায়নবিজ্ঞান এবং জীব বিজ্ঞানের জন্য ৩০ নম্বর করে বরাদ্দ থাকে, আর ইংরেজীতে থাকে ১০ নম্বর। এছাড়া এসএসসি-এর জিপিএ-এর আট গুণ এবং এইচএসসি-এর জিপিএ-এর ১২ গুণ এভাবে হিসেবে করে চূড়ান্ত মেধা তালকা তৈরি করা হয়।

 

  • চূড়ান্ত ভর্তির আগে একটি মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়।

 

হাসপাতাল:

শুরুতে

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল এবং আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যথলজিতে ইন্টার্ণীর পাশাপাশি প্রয়োজনে এখানকার ক্যাডেটরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কাজ করেন।

এছাড়া মেডিকেল কলেজটির ঠিক পাশেই ৫০০ শয্যার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নির্মাণ কাজ চলছে। এখানে শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্ণী চিকিৎসকরা ব্যবহারিক জ্ঞান লাভের সুযোগ পান।

 

ইংরেজী কোর্স

শুরুতে

মেডিকেল কোর্স পুরোটাই ইংরেজীতে করানো হয়। তাই এখানকার ক্যাডেটদের জন্য চার  চার সপ্তাহের একটি ইংরেজী কোর্সের ব্যবস্থা করা হয়। আর্মি এডুকেশন কোর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এ কোর্সটি পরিচালিত হয়।

 

পড়াশোনার খরচ:

শুরুতে

এএমসি ক্যাডেট:

শুরুতে

 

খরচের খাত

টাকার পরিমাণ

জামানত (ফেরতযোগ্য)

৩০,০০০ টাকা

সাজসরঞ্জাম (প্রতি মাসে)

৭৫০ টাকা

মেস চার্জ (প্রতি মাসে)

৩,২০০ টাকা

লন্ড্রি এবং অন্যান্য (প্রতি মাসে)

২০০ টাকা

 

এছাড়া আর কোন খরচ দিতে হয় না।

 

এএফএমসি ক্যাডেট:

শুরুতে

খরচের খাত

সামরিক বাহিনীতে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্তদের সন্তানদের জন্য

সরকারী এবং সায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সন্তানদের জন্য

অন্যান্য বাংলাদেশী নাগরিকদর জন্য

ভর্তি ফি (এককালীন)

১০,০০০ টাকা

১০,০০০ টাকা

১০,০০০ টাকা

টিউশন ফি (প্রতি মাসে)

২০০ টাকা

২০০ টাকা

২০০ টাকা

জামানত (ফেরতযোগ্য)

৫০,০০০ টাকা

৫০,০০০ টাকা

৫০,০০০ টাকা

সাজসরঞ্জাম

৭৫০ টাকা

৭৫০ টাকা

৭৫০ টাকা

মেস চার্জ

৩,২০০ টাকা

৩,২০০ টাকা

৩,২০০ টাকা

লন্ড্রি এবং অন্যান্য

২০০ টাকা

২০০ টাকা

২০০ টাকা

উন্নয়ন ফি (এককালীন)

১,০০,০০০ টাকা

১,০০,০০০ টাকা

২,৫০,০০০ টাকা

লাইব্রেরী ফি

২০০ টাকা

২০০ টাকা

২০০ টাকা

কলেজ ম্যাগাজিন বার্ষিক

২০০ টাকা

২০০ টাকা

২০০ টাকা

ক্রিড়া

২০০ টাকা

২০০ টাকা

২০০ টাকা

 

বন্ড:

শুরুতে

এএমসি এবং এএফএমসি উভয় ধরনের ক্যাডেটদের বাবা-মা বা আইনানুগ অভিভাবককে নন জুডুশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি বন্ড দিতে হয়। শিক্ষার্থী কোন কারণে পড়াশোনা বাদ দিলে বা শৃঙ্খলাভঙ্গ জনিত কারণে বহিষ্কৃত হলে সরকার নির্ধারিত হারে ক্ষতি পূরণ দিতে বাধ্য থাকবেন এধরনের কথাই লেখা থাকে বন্ডে।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়শাহবাগ, শাহবাগ
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজকোতোয়ালী, মিড ফোর্ড
আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজতেজগাঁও, তেজগাঁও
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজরমনা, মগবাজার
বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজধানমন্ডি, ধানমন্ডি
জেড এইচ সিকদার উইমেন মেডিকেল কলেজধানমন্ডি, ধানমন্ডি
আদ-দ্বীন মহিলা মেডিকেল কলেজরমনা, মগবাজার
ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজমিরপুর, কল্যাণপুর
ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজশাহবাগ, শাহবাগ
আনোয়ার খাঁন মডার্ন মেডিকেল কলেজধানমন্ডি, ধানমন্ডি
আরও ৮ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি